পাকিস্তান সফর শেষে মঙ্গলবার ভারতে যাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। কাশ্মীরে ৪৯ সেনা হত্যার উত্তেজনাকর মুহূর্তে বিরোধপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে তিনি সফর করছেন।
আরব নিউজ জানায়, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম সফরে পাকিস্তানে বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দেন সালমান। এবার ভারতের অবকাঠামো ও কৃষি ক্ষেত্রে এক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে পারেন তিনি।
যুবরাজ সালমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সঙ্গে রয়েছেন সৌদি আরবের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।
ভারত আশা করছে, ন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডে (এনআইআইফি) বিনিয়োগের ঘোষণা দেবেন সালমান। এ তহবিলে যুক্ত রয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তহবিলটি ভারতের অবকাঠামো বিশেষ করে রেলওয়ে ও মহাসড়ক উন্নয়নে গঠিত হয়েছে।
এ বিষয়ে নয়াদিল্লি ভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড এনালাইসিসের অ্যাসোসিয়েট ফেলো ড. মুদাচ্ছার কামার বলেন, “আমরা এক বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি আশা করছি।”
বুধবার সালমানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাতের কথা রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, তাদের বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ইস্যু স্থান পাবে। সঙ্গে থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ক আলোচনা।
তেল জায়ান্ট সৌদি আরামকো ভারতে তেল শোধনাগারে বিনিয়োগ করবে এমনটা আশা করছে দুই পক্ষ। ভারতের পশ্চিম উপকূলে থেমে থাকা এ প্রতিষ্ঠানের ৪৪ বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
এর আগে ২০১৬ সালে সৌদির রাজধানীতে যান মোদি। সেই সফরেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছিল দু’দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের মধ্যে। সর্বশেষ নভেম্বরে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে আলোচনা হয় মোদি ও সালমানের।
এদিকে পাকিস্তানে ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। চলমান সফরে যুবরাজের চীন যাওয়ারও কথা রয়েছে।
