কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বোমা হামলায় ঘটনায় ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন চরমে। এমন অবস্থায় আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির কিছু সমর্থক ও এক ক্রিকেট সংগঠক।
গত বৃহস্পতিবার ভারতশাসিত জম্মু কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের এক আত্মঘাতী হামলায় ভারতের ৪৯জন আধাসামরিক সেনা নিহত হয়। এই ঘটনার পর শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চরমে পৌঁছেছে।
এ ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করছে ভারত। তবে নিজেদের ওপর আসা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান।
এরই অংশ হিসেবে এবার বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০১৯ এ পাকিস্তান দলকে বয়কটের আহ্বান এলো ভারতের পক্ষ থেকে।
২০১৩ সাল থেকে কোনো দ্বিপাক্ষিক খেলছে না ভারত-পাকিস্তান। তবে ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও ২০১৮ সালের এশিয়া কাপে মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি। দুটি ম্যাচই হয়েছিল নিরপেক্ষ ভেন্যুতে।
চলতি বছরের ৩০ মে থেকে ১৪ জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে বসবে ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসর। ১৬ জুন ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মুখোমুখি হবে চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান।
বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে বয়কট করতে ইশান দত্ত নামের ভারতের এক সমর্থক টুইটারে লিখেছেন, “আইসিসি বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে বয়কট করো! তারা যে সন্ত্রাসীবাদকে মদদ দিচ্ছে তার বিরুদ্ধে এক হও।”
বিসিসিআইকে উদ্দেশ্য করে আর এক সমর্থক টুইট করেছেন এই বলে- “২০১৯ সালের বিশ্বকাপে হয় ভারত খেলবে, আর না হয় পাকিস্তান। ওদের সরিয়ে দেওয়ার মতো যথেষ্ট অর্থ আছে আপনাদের।”
ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়ার (সিসিআই) সেক্রেটারি সুরেশ বাফনা বলেন, “আমরা আমাদের সেনাবাহিনী ও সিআরপিএফ (সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স) সদস্যদের উপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।”
পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে বয়কট করতে ভারতের কিছু সমর্থক যে দাবি তুলছে তাতে অনেকটা একমত বাফনা, “সিসিআই একটি ক্রীড়া বিষয়ক সংগঠন হলেও জাতির স্বার্থের ব্যাপারটিই প্রথমে আসবে। জাতির স্বার্থ খেলাধুলারও আগে।”
তবে এ ব্যাপারে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
কাশ্মীরের ঘটনায় চলতি পাকিস্তান সুপার লিগের সম্প্রচার নিয়ে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে। ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই টুর্নামেন্টের সম্প্রচার কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইএমজি রিলায়েন্স। কোনো ম্যাচ সম্প্রচার করবে না দেশটির টিভি চ্যানেল ডি-স্পোর্টও।
