সৌদিকে পরমাণু প্রযুক্তি দেবেন ট্রাম্প

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:১৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম মিত্র সৌদি আরবের কাছে পরমাণু প্রযুক্তি বিক্রি এগিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। কংগ্রেসের একটি কমিটির নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘনের আশঙ্কার মধ্যেও এমন তৎপরতা অব্যাহত আছে।

আলজাজিরার খবরে জানানো হয়, প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে সৌদি আরব ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা, এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে পারে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা।

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যা ও ইয়েমেন যুদ্ধের কারণে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বাধীন সৌদি নিয়ে শঙ্কিত যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা। দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভসের পর্যবেক্ষণ ও সংস্কার কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, অজ্ঞাতনামা অনেকে অতি সংবেদনশীল পরমাণু প্রযুক্তি হস্তান্তরে হোয়াইট হাউসের তড়িঘড়ি করার চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করেছে। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবে কিছু নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হবে।

পর্যবেক্ষণ ও সংস্কার কমিটির চেয়ারম্যান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা এলিজাহ কামিংস গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে একটি চিঠি পাঠান। এতে তিনি লেখেন, ‘বিষয়টি জানাতে এগিয়ে আসা সাড়া জাগানো লোকজন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টাদের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যাতে কেন্দ্রীয় অপরাধ আইন লঙ্ঘন হতে পারে।’

ওই কমিটি সৌদি আরবসহ অন্য আরব দেশগুলোতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে ট্রাম্প প্রশাসনের অনুমতি নিতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পরমাণু বিদ্যুৎ কোম্পানির চেষ্টার বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।

পর্যবেক্ষণ কমিটির তদন্তের অন্যতম বিষয় হলো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের মোর্চা আইপি৩ ইন্টারন্যাশনালের প্রচেষ্টা। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৬ সালের শেষে ও পরের বছরের শুরুতে সৌদি আরবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে তদবির চালিয়েছিল মোর্চাটি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের খবরের বরাত দিয়ে কংগ্রেস কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, অতি সম্প্রতি গত ১২ ফেব্রুয়ারি আইপি৩ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় পরমাণু বিদ্যুৎ কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ট্রাম্প। সে সময় জর্ডান ও সৌদি আরবে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে আলোচনা হয়। এর উদ্যোক্তা ছিলেন আইপি৩-এর প্রতিষ্ঠাতা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জ্যাক কিন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, টমাস বারাক বেশ কয়েকবার আইপি৩-এর প্রস্তাব হোয়াইট হাউসে নিয়ে যান। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বারাক। তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের অভিষেক কমিটির জন্য ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আইনজীবীরা সেই অভিষেক কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।

কংগ্রেসের হাউস কমিটি আইপি৩-এর প্রস্তাব হিসেবে বর্ণনা করে কিছু নথি প্রকাশ করেছে। আর কমিটির চেয়ারম্যান কামিংস তার চিঠিতে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আলোচনার নথি ও ই-মেইল চেয়েছেন হোয়াইট হাউসের কাছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত