কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মেহরাব হোসেন (২০) নামে নৌবাহিনীর এক সদস্যকে গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ভানতি তুলতলা গ্রামের গোমতী নদীর চরের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মেহরাব হোসেন বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ভানতি এলাকার প্রবাসী শফিকুল ইসলামের ছেলে। লাশ উদ্ধারের পর দ্রুত ঘটনাস্থলে যান কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই ) ও ডিবি পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের স্থানসহ স্থানীয় লোকজন ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা।
কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন ইমন জানান, বাড়ির কাছেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। পূর্বশত্রুতা, পারিবারিক কলহ বা কোনো দুর্বৃত্তের ঘটানো হত্যাকাণ্ড কিনা আমরা খতিয়ে দেখছি। দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আটক করার আশ্বাস দেন তিনি।
তবে পূর্বশত্রুতার আক্রোশে বন্ধুদের হাতেই নির্মমভাবে মেহরাব হোসেন খুন হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের মামাতো বোন সবিতা আক্তার লিজা ও ভাই হাবিবুর রহমান ইভান। বন্ধুদের ভয়ে ২ দিন বাড়ি থেকে পালিয়ে মেহরাব অন্যত্র ছিলেন বলে জানিয়েছেন তারা।
খুন হওয়া নৌ-সেনা মেহরাব খুলনায় ট্রেনিং শেষে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভানতিতে নিজ বাড়িতে এক দিনের ছুটি কাটাতে এসেছিলেন।
বুধবার রাতে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় বাস থেকে নেমে মায়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। শেষবার রাত ৩টায় মুঠোফোনে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন তার বোন লিজা। এরপর আর খোঁজ ছিল না, বাড়ি ফিরতে দেরি হওয়ায় তার মা ও বোন তাকে খুঁজতে বের হন।
বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকুল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
এই হত্যার ঘটনায় নিহত মেহরাবের মা নিলুফা বেগম (৪৫) বাদী হয়ে হত্যা মামলার অভিযোগ দিয়েছেন।
২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি নৌবাহিনীতে যোগ দেন মেহরাব হোসেন। যোগদানের পর খুলনায় ট্রেনিং শেষে চট্টগ্রামে তার পোস্টিং হয়েছিল। এক দিনের ছুটি কাটিয়ে শুক্রবার চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর দপ্তরে মেহরাব হোসেনের রিপোর্টিং করার কথা জানিয়েছেন নিহতের মামাতো বোন সবিতা আক্তার লিজা।
মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান ইভান জানান, এসএসসিতে পড়ার সময় মেহেরাবের সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল না বলে জানান তিনি। বেশ কয়েকবার মারামারি হয়েছিল তাদের মধ্যে। এসএসসি পাসের পরই নৌবাহিনীতে যোগ দেন মেহেরাব, ট্রেনিং অবস্থায় এইচএসসি পাস করেন। বাড়িতে আসা-যাওয়ার সময় তার উপর ক্ষিপ্ত বন্ধুরা তাকে দেখে নেবে বলে শাসিয়েছেন বলে বাড়িতে জানিয়েছিলেন মেহেরাব।
ইভান বলেন, তার নিজ বাড়ি ভানতি আসার পর গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ থেকে বাড়ি যাওয়ার রাস্তায় নামার সময়ও তার মাকে ফোন করে জানায়- যে মা কাছেই এসে গেছি। এরপর আর খোঁজ ছিল না। স্থানীয় মেম্বার মো. কামাল হোসেন তার পুকুর থেকে মাছ ধরে ফেরার পথে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধে দুটি ব্যাগ দেখতে পেয়ে তা স্থানীয় মসজিদে দেওয়ার জন্য রওনা হন। এ সময় নিহত মেহরাবের মায়ের সঙ্গে দেখা হলে তিনি তার ছেলের ব্যাগ বলে চিৎকার করেন। পরে তারা মেহরাবকে খুঁজতে থাকেন এবং গোমতী নদীর কিনারে গিয়ে তার মৃতদেহ খুঁজে পান।
