মা-বাবা দুজনেই শয্যাশায়ী। নিয়মিত তাদের ওষুধ সেবন করতে হয়। সে ওষুধ কিনতে বুধবার সন্ধ্যায়ও বের হয়েছিলেন মোহাম্মদ আলি আর অপু রায়হান। সঙ্গে ছিল তাদের পরিবারের চার বছরের ছোট ছেলেটি।
কিন্তু ওষুধ নিয়ে তাদের আর ফেরা হবে না। রোগা বিছানায় মা-বাবা আর বোন জরিনা কেবল অপেক্ষায় থাকবেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেলের মর্গে আহাজারি করতে করতে এসব বলছিলেন মধ্যবয়স্কা জরিনা। তার চুল এলোমেলো, পরনের শাড়ি আলুথালু। হাউমাউ কান্নায় ভারি হয় আসে বাতাস।
তিনি বলেন, আমার দুই ভাই আর ভাতিজা লালবাগ থেকে চকবাজার যাচ্ছিল অসুস্থ মা-বাবার জন্য ওষুধ কিনতে। এখন তো তারা মরে গেল। এখন কে আমার মা-বাবার জন্য ওষুধ এনে দেবে।
তারা লালবাগের রহমতগঞ্জ এলাকায় থাকতেন। চকবাজারে মোহাম্মদ আলি একটি কসমেটিকসের দোকান চালাতেন।
আলির স্ত্রী সাত মাসের গর্ভবতী। আর অপুর চার মাসের একটি শিশু রয়েছে। চকবাজারের বসবাসকারী জরিনা বলেন, দোকান বন্ধ করে আমার মা-বাবার জন্য ভাইয়েরা রাতে ওষুধ নিয়ে বাসায় ফিরছিল।
তিনি জানান, তাদের মা-বাবা মৃত্যুশয্যায়।
