চকবাজার ট্র্যাজেডি

দু'জনই দুষলেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমুকে

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৪:৩৪ পিএম

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জন নিহতের ঘটনায় দোষ দেওয়া হচ্ছে সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুকে। 

শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে কেমিক্যালের গোডাউন ও কারখানা সরাতে ২০১৬-১৭ সালেই উদ্যোগ নেওয়া হয়'।

'অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন শিল্পমন্ত্রীর (সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু) কাছে গিয়ে এফবিসিসিআইয়ের নেতারা সময় চেয়েছিলেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে সেই সময় অভিযান বন্ধ রেখেছি। তখন যদি অভিযান চলত তাহলে হয়তো আজকের পরিস্থিতি হতো না'।

এরপর শনিবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে আরেক সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও সাম্যবাদী দলের নেতা দিলীপ বড়ুয়া একই ব্যক্তিকে দোষ দিয়েছেন।

 তিনি বলেছেন, 'আমাদের যে শিল্পমন্ত্রী (আমির হোসেন আমু) ছিলেন, উনি যদি সিরিয়াসলি কেমিক্যাল গোডাউন ও কারখানা সরানোর বিষয়টি টেকআপ করে নিতেন তাহলে হয়তো এত দিনে পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন রিলোকেট করা সহজ হতো।'

শনিবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক জোট ১৪ দলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চকবাজারে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন দিলীপ বড়ুয়া।

২০১০ সালে রাজধানীর নিমতীলর ভয়াবহ আরেক অগ্নিকাণ্ডের সময় শিল্পমন্ত্রী ছিলেন দিলীপ বড়ুয়া।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, কেমিক্যাল বিজনেস রিলোকেট করার জন্য আমি মন্ত্রী থাকাকালে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কেমিক্যাল মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বিসিক, তারা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তারা ঢাকার বাইরে একটি জমিতে স্থানান্তরিত হবে। এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা ছিল। কিছু ব্যাপারের কারণে পুরো ব্যাপারটি আগায়নি।

চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের পর বিবিসিকে দেওয়া মন্তব্যে তিনি বলেন, 'তখন তো অভিযান হয়েছিল। তারা নীতিগতভাবে ঠিক করেছিল, তারা চলে যাবে। আমরা জায়গা ঠিকে করে দেব। তারা তাদের অর্থায়নে সেটা তৈরি করবে। আমরা কেরানীগঞ্জে সে রকম জায়গাও ঠিক করেছিলাম । এর আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো করতে গিয়ে আমার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর যারা কর্মকর্তা ছিলেন, তারা আর তা ফলোআপ করেননি। ফলে হয়নি'।

২০১০ সালে নিমতলীতে কেমিক্যালের কারখানা থেকে আগুনের ঘটনার নয় বছর পরও সিদ্ধান্ত কেন বাস্তবায়ন হলো না এমন প্রশ্নের জবাবে দেশ রূপান্তরকে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, 'আমি বারবার উদ্যোগ নিয়েছি। রাজউক, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি'।

'সর্বশেষ ২০১৭ সালে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বৈঠক করে অভিযানের সময় ঠিক করেছি। এ সময় শিল্পমন্ত্রী (আমির হোসেন আমু) ও এফবিসিসিআইয়ের নেতারা আমাকে অনুরোধ করেছেন, তাদের একটু সময় দিতে'।

মেয়র আরো জানান, 'ব্যবসায়ীরা বলেছেন, কেরানীগঞ্জের বিসিকে কেমিক্যাল কারখানার জন্য যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল সেখানে জমি নিয়ে ঝামেলা রয়েছে। কেরানীগঞ্জের প্রজেক্টটি দেরি হওয়ায় আমাদের অভিযানে সময় লেগেছে'।

বুধবার রাত পৌনে ১১টার দিকে চুড়িহাট্টা জামে মসজিদ সংলগ্ন আসগর লেন, নবকুমার দত্ত রোড ও হায়দার বক্স লেনের মিলনস্থলে অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। এতে এখন পর্যন্ত ৭০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত