ট্রাক্টরচাপায় কিশোরগঞ্জে ৪১ দিনে নিহত ১০

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:৩৫ পিএম

কিশোরগঞ্জের সড়ক-মহাসড়ক দাবড়ে বেড়াচ্ছে মাটি টানার ট্রাক্টর (লরি)। শহর থেকে গ্রাম আবার গ্রাম থেকে শহরে ছোট-বড় সব রাস্তায় দাপটের সঙ্গে দৌড়াচ্ছে ট্রাক্টর নামের দানবযান। এতে অহরহই ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণহানির শিকার হচ্ছেন অনেকে। আবার অনেকেই আহত হয়ে বরণ করছেন স্থায়ী পঙ্গুত্ব। রাস্তায় বের হলে ট্রাক্টরের ভয়ে এখন ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন নাগরিকরা। কিশোরগঞ্জে গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারিÑ এই ৪১ দিনে ট্রাক্টরচাপায় প্রাণ হারিয়েছে ১০ জন। বেপরোয়া এই যানে এ ছাড়া আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বেশ কয়েকজন। লরিতে প্রাণহানির এই তালিকায় বাদ যাচ্ছে না শিশু থেকে বৃদ্ধ কেউই। সাম্প্রতিক সময়ে লরিতে প্রাণহানির এমন ঘটনা ভাবিয়ে তুলেছে সাধারণ মানুষকে। সর্বশেষ, গত ২২ জানুয়ারি জেলার পাকুন্দিয়ায় পেছন থেকে ট্রাক্টর ধাক্কা দিয়ে এবং পরে চাপা দিলে নিহত হন সাইকেল আরোহী সায়েম উদ্দিন (৫০)। এ ছাড়া, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুরে মাটিভর্তি লরির চাপায় মারা গেছেন রাজিব (২৪) ও মোক্তাদির মিয়া (৫৫) নামে দুই সিএনজিচালিত অটোরিকশাযাত্রী। এ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন জাহিদ (২৫) ও মনিরুল ইসলাম নামের আরও দুজন। কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ সড়কে কিশোরগঞ্জ শহরতলির সতাল এলাকার আওলাদ মাড়াই কলের মোড়ে এই দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে গেছে অটোরিকশাটিও। ওই ঘটনার আগের দিন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কটিয়াদীতে ইটভর্তি লরির চাপায় মাহতাব উদ্দিন মাতু (৩৫) নামে এক ট্রলিচালক নিহত হন।

এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি নিকলীতে মাটিভর্তি লরির চাপায় প্রাণ হারায় মো. তৌহিদ (১২) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র। গত ৬ ফেব্রুয়ারি করিমগঞ্জে লরির সঙ্গে ধাক্কায় প্রাণ হারায় মো. খাইরুল ইসলাম (২৭) ও মো. ছমিন মিয়া (৩০) নামে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী। গত ২৫ জানুয়ারি লরির নিচে চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় আবু তাহের (৭০) নামে এক রিকশাচালকের। বেলা ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ-নিকলী সড়কে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি মোড়ে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি তাড়াইলে বালুবাহী লরির চাপায় প্রাণ হারায় শফি মোয়াজ্জেম লাদেন (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্র। গত ১৪ জানুয়ারি বালুবাহী লরির ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা জান্নাতুল ফেরদাউস ঊর্মি (১৯) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর মহাসড়কের সদর উপজেলার খিলপাড়ার নতুন জেলখানা এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত নিয়মনীতি না মেনে লাইসেন্সবিহীন বেপরোয়া চালকদের দিয়ে মালিকরা গাড়ি চালানোর জন্যই এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অচিরেই লরির ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত