ছোটবেলা থেকেই বেশ দুরন্ত ও বখাটে প্রকৃতির ছিল বিমান ছিনতাইকারী মাহমুদ পলাশ। তার ছোটবেলার খেলার সাথি, প্রতিবেশী ও শিক্ষক তার চারিত্রিক দিকটি নিশ্চিত করেছেন।
পলাশ তার এলাকার তাহেরপুর আলিম মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্থানীয় একটি মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। একদিন রাতে বোরকা পড়ে মহিলা মাদ্রাসায় প্রবেশ করে মাদ্রাসা ছাত্রীর সঙ্গে রাত যাপন করে। এ ঘটনায় তখন পলাশকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
এ ব্যাপারে তাহেরপুর আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক নূরুন নবী বলেন, সে মাদ্রাসায় বেশ অবাধ্য ছাত্র ছিল। শিক্ষকদের কথা তেমন একটা শুনতো না। মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে তাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
পলাশের বাল্যবন্ধু ইমরান জানান, মেয়েদের প্রতি ছোট বেলা থেকেই সে দুর্বল ছিল। ২০১২ সালে সে উপজেলার কাঁচপুর এলাকা থেকে এক মেয়েকে অপহরণ করে। সে সময় সে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। পরে ২০১৪ সালে বগুড়া সাতমাথা এলাকায় মেঘলা নামের এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করে তাকে বিয়ে করে। ২০১৭ সালে সে চিত্রনায়িকা সিমলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায় এবং তাকে বিয়ে করে। শিমলাকে বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রী তাকে তালাক দেয়।
স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা ঈমান আলী জানান, পলাশ এলাকায় তেমন একটা থাকত না। তার বাবার প্রচুর টাকা সে নষ্ট করেছে।
পলাশের বাবা পিয়ার জাহান সরদার বলেন, ও সারা জীবন আমারে জ্বালিয়েছে। মরে গিয়েও আমাদের সবার কাছে ছোট করে গেল। এমন অবাধ্য ছেলের লাশ আনতে আমি যাব না।
তিনি আরো বলেন, খবর পেয়ে সকাল থেকেই শত শত মানুষ আমার বাড়িতে ভিড় করছেন। এটা আমার জন্য চরম লজ্জার। আমি মানুষের সামনে মুখ দেখাব কি করে? সে দুই বার অপহরণ নাটক সাজিয়ে আমার কাছ থেকে ৮লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে নামাজ পড়ে বলেছি আল্লাহ হয় আমার ছেলেকে ভালো করে দাও না হলে তার মরণ দাও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক আত্মীয় জানান, পলাশের বাবা বিদেশে থাকার সুবাদে মাকে উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে টাকা নিয়ে মেয়েদের পেছনে খরচ করত। চলচ্চিত্র জগতে জড়িয়ে সে তার বাবার প্রচুর টাকা নষ্ট করেছে। ২০/২২ বছর প্রবাসে থেকে তার বাবাকে এখন মুদি দোকান করে সংসার চালাতে হচ্ছে। একমাত্র ছেলে ছিল বলে তার অনেক অন্যায় আবদার মেনে নিয়েছিল বাবা মা। তবে শেষ সময়ে তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাবা টাকা পয়সা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।
