শনিবার, ২২ জুন ২০২৪, ৮ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তাড়াশ থানার ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও আসামিকে সহায়তার অভিযোগ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৯, ১০:১৬ পিএম

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে ঘুষ দাবি ও আসামিকে সহায়তা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার দুপুরে তাড়াশ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ধাপতেতুলিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাবিবুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন নেছা (৬০) এ অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, গত ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাবিবুর রহমান মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একই গ্রামের আমানত সরকার, খান মাহমুদ, সকেন আলী ও আবুল হোসেনসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত আমার চার যুগ ধরে ভোগদখলকৃত সম্পত্তি জবর দখলের চেষ্টা করে আসছে।

গত ২ ফেব্রুয়ারিতে ৫ বিঘা আয়তনের একটি পুকুরে আমার ভাতিজা আজাদুল ইসলাম মাছ ধরতে গেলে ওই দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় আমি ওই পুকুর পাড়ে ছুটে গেলে আমাকেও তারা লাঞ্ছিত করে। এ ছাড়া প্রতি বছর ১ লাখ টাকা করে তাদের চাঁদা দিয়ে  ওই পুকুরে মাছ চাষ করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

এ ঘটনার পর মুমূর্ষু অবস্থায় আমার ভাতিজাকে নিয়ে তাড়াশ থানায় মামলা করতে গেলে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান মামলা নিতে অস্বীকার করেন। নিরুপায় হয়ে আমি গত ১২ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ আদালতে মামলা করি। মামলা নম্বর  ১০/২০১৯। এ মামলা দায়ের করার সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাড়াশ থানার ওসিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে আদালত নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, কিন্তু গত ১৮ দিনেও ওসি মোস্তাফিজুর রহমান আদালতে এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেননি। আমার পক্ষে এ প্রতিবেদন দিতে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান আমার কাছে তিনি ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন। এ ছাড়া আমার কাছে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও মুরগি খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। নিরুপায় হয়ে আমি তিন দফায় তাকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করি। এ ছাড়া দেশি জাতের মাছ ও মুরগি থানার মধ্যে অবস্থিত তার বাসায় দিয়ে আসি। এরপরেও তিনি আমাকে মোবাইল ফোনে জানান, আমি চাপে আছি। স্থানীয় এমপির ছোট ভাই আবু সাঈদ বিষয়টি অবগত আছেন। আপনারা গ্রামে বসে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলেন। না হলে পরে আরো বেশি ঝামেলায় পরবেন। এমন ভয় দেখিয়ে পুকুরে যেতেও আমাকে তিনি নিষেধ করেন।

সাংবাদিকদের মেহেরুন নেছা এ বলেন, তিনি বিষয়টি অভিযোগ আকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দিয়েছেন।

এ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগকারী মেহেরুন নেছা পক্ষে উপস্থিত ছিলেন,সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুস সোবাহান, গাজী সিদ্দিকুর রহমান ও আরশেদ আলী।

এ ব্যাপারে তাড়াশ থানার ওসি(অফিসার ইনচার্জ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমার প্রতি আনীত অভিযোগ সত্য নয়, দু’পক্ষই আদালতে মামলা করছে আমি তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত