আট দিনের ব্যবধানে দুই দফা অকাল ঝড়ো বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে পড়েছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর রবিশস্যের ক্ষেত। মৌসুমের মধ্যভাগে ঝড়ো হাওয়া আর ভারী বৃষ্টির এমন ক্ষতিতে এখন চোখে সর্ষেফুল দেখছেন প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি, বড়সহ সকল শ্রেণির কৃষক। কৃষি অফিসের দাবি অন্তত শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে তরমুজসহ রবিশস্যের। তবে সেচ সংকট কেটে যাওয়ায় হাসি ফুটেছে বোরো চাষিদের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার কলাপাড়া, গলাচিপা ও রাঙ্গাবালীর বিভিন্ন এলাকার আবাদি জমিতে পানি জমে পচে গেছে সদ্য বের হওয়া তরমুজ, ডাল, আলু, মরিচ, সূর্যমুখী, ভাটরাসহ সব ধরনের সবজি এবং শস্য। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে মরিচ এবং তরমুজ চাষিরা। পচে গলে গেছে অধিকাংশ শস্য। নীলগঞ্জের সবজি চাষি সুলতান গাজী জানান, তরমুজসহ ডালজাতীয় শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া যারা মরিচ, চিচিঙ্গা, চাল কুমড়া, পুঁইশাক জাতীয় শস্য ও শাকসবজির বীজতলা করেছেন তা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়।
কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য মতে, জেলার রাঙ্গাবালীতে ১৪ হাজার ৫০০ কৃষক, কলাপাড়ায় ১৬ হাজার ৭০০ কৃষক এবং গলাচিপায় প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কৃষক বৃষ্টিতে অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হয়েছেন। কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মন্নান জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চার হাজার হেক্টর বেশি জমিতে তরমুজ, মুগসহ নানা জাতের রবিশস্যের চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়াসহ রোগবালাইয়ের তেমন প্রকোপ না থাকায় চাষের মতো অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা বেশি অর্জনের আশা ছিল। কিন্তু অসময়ের দু’দফা বৃষ্টিতে সকল শস্যের অন্তত অর্ধেক নষ্ট হয়ে যাবে, ভাবা যায়নি। বৃষ্টিপাত বন্ধ না হলে শতভাগ ক্ষতির আশঙ্কা করছি।
