কুমিল্লার ‘হায় হায় কোম্পানি’ এমডি একরাম গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৯, ০৪:৩৯ এএম

কুমিল্লায় প্রিভেইল নামে এক ‘হায় হায় কোম্পানি’র মাধ্যমে গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক একরামুল হক মজুমদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার রাতে রাজধানী ঢাকার মালিবাগ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগে সাজা পরোয়ানাসহ তার বিরুদ্ধে মোট ১৫টি মামলা রয়েছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, একরামুল হক মজুমদার ২০০৬ সালে প্রিভেইল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান চালু করেন। জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকার হাকিম প্লাজার দ্বিতীয় তলায় ছিল এর প্রধান কার্যালয়। এছাড়া ঢাকা পুরানা পল্টন, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের মুরাদপুর, কক্সবাজার, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, বরুড়া, নাঙ্গলকোট, বাঙ্গড্ডা, দেবিদ্বার, লাকসাম, নগরীর কান্দিরপাড়, মোগলটুলীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্ধশত শাখা অফিস রয়েছে। লাখে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা প্রদানের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এ হায় হায় কোম্পানি। এক শ্রেণির দালালের মাধ্যমে মাসে প্রতি লাখে আড়াই হাজার টাকা মুনাফা এবং চাহিবামাত্র আসল টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকারে শত শত মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। পরে স্বল্পমেয়াদে দ্বিগুণ-তিনগুণ মুনাফা দেওয়াসহ কিস্তিতে ফ্ল্যাট, জমি দেওয়ার নামে বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার চালিয়ে হাজার কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করা হয়। গত ছয় বছর আগে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের জমা টাকা বা লভ্যাংশ না দিয়ে কৌশলে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। ক্রমান্বয়ে সব অফিসে তালা লাগিয়ে একপর্যায়ে বাসাবাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকসহ কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি আবদুল্লাহ মাহফুজ জানান, সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘদিন একরামুল হক মজুমদার পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে বুধবার রাতে ঢাকার মালিবাগ থেকে সিআইডি পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের কৈয়ারধারী গ্রামে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত