আজ থেকে ৯০ বছর আগে পাতার পর পাতা অঙ্ক কষে আইনস্টাইন খুব চেষ্টা করেছিলেন এই ব্রহ্মা-ের মূল দুটি বল বা ফোর্সকে এক বিন্দুতে মিলিয়ে দিতে। চেয়েছিলেন দুটি বলকে একই পথে হাঁটাতে। একই নিয়মে ব্যাখ্যা করতে, যা এখনো পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি। একটি বলের নাম অভিকর্ষ বল বা বা গ্র্যাভিটেশনাল ফোর্স। এই বলের জন্যই গাছ থেকে আপেল মাটিতে পড়ে কিংবা কাছাকাছি চলে এলে কোনো গ্রহাণু আছড়ে পড়ে পৃথিবীতে। অন্য বলটি হলো তড়িৎচুম্বকীয় বল বা ইলেকট্রো-ম্যাগনেটিক ফোর্স। এই বলের জন্যই তড়িৎকণা কোনো পরিবাহীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছোটে।
স্ট্রংফোর্স ও উইকফোর্স ছাড়া মূলত এই দুটি বলের ওপরই টিকে আছে ব্রহ্মা-। আর এ দুটি বলই চালিকাশক্তি হয়ে থাকবে বেলুনের মতো ফুলতে থাকা ব্রহ্মণ্ড ফেটে যাওয়ার সময় পর্যন্ত।
অঙ্কের আঁকিবুঁকিতে ভরা আইনস্টাইনের সেই ১০১ পাতার পাণ্ডুলিপি হঠাৎ করেই ইসরায়েলের হিব্রু বিশ^বিদ্যালয়ে এসে পৌঁছায়। এই পাণ্ডুলিপি থেকে জানা গেছে, ব্রহ্মণ্ডের চালিকাশক্তি মূল দুটি বলের হাতে হাত মেলাতে আইনস্টাইন কোন দিকে কতটা এগিয়েছিলেন বা এগোনোর চেষ্টা করেছিলেন। পাণ্ডু লিপিটি লেখা হয়েছিল ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৮ সালের মধ্যে। যার সাত বছরের মধ্যেই ১৯৫৫ সালে মৃত্যু হয়েছিল কিংবদন্তি বিজ্ঞানীর।
এত দিন ভাবা হতো, আইনস্টাইনের ওই পাণ্ডু লিপিগুলো বোধ হয় হারিয়ে গেছে বা কোনোভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এই প্রথম জানা গেল, সেগুলো নষ্ট হয়নি। পাওয়া গেছে একটি সংযোজনী অংশও। আলোচনা, বিতর্কের জন্য আইনস্টাইন ওই নথিপত্রগুলো পাঠিয়েছিলেন প্রুসিয়ান অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে।
হিব্রু বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিকাগোর একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আইনস্টাইনের ৮০ হাজার নথিপত্র তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কিত ওই পাণ্ডু লিপিটি তারই অন্যতম। শিকাগোর ওই ফাউন্ডেশন সেগুলো কিনেছিল নর্থ ক্যারোলিনার এক সংগ্রাহকের কাছ থেকে।
বিন্দু থেকেই সৃষ্টি। তারপর ছড়িয়ে পড়া। সবশেষে বিন্দুতেই সবকিছুর মিলেমিশে যাওয়া। অর্থাৎ বিন্দু থেকে উৎপত্তি, আবার বিন্দুতেই নিষ্পত্তি। ব্রহ্মণ্ডের এই এক ও একমাত্র নিয়মেই বিশ্ব প্রকৃতির সব কেরামতিকে মেলাতে চেয়েছিলেন অ্যালবার্ট আইনস্টাইন।
