গাজীপুরে সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংযোগে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৯, ০১:৪০ এএম

গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকার মির্জাপুর সিএনজি স্টেশনে (ইউনিট-২) নানা অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া হয় গ্যাস সংযোগ। এ খবর জানাজানির পর প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা পাওনা আদায় না করেই স্টেশনটির গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্র্তৃপক্ষ। তিতাস গ্যাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার অপকর্ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্যাস স্টেশনটির কাছে জামানতের পৌনে ৩ কোটি ছাড়াও দুই মাসের বিল বাবদ আরও অর্ধ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রয়েছে। 

তিতাস গ্যাসের গাজীপুর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিল পরিশোধে ব্যর্থতাসহ নানা অনিয়মের কারণে ২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মির্জাপুর সিএনজি স্টেশনের (ইউনিট-২) গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করে তিতাস গ্যাস। পরে স্টেশনটির মালিক আবদুস সামাদের কাছ থেকে মাসিক আড়াই লাখ টাকা ভাড়ায় স্টেশনটি চালুর উদ্যোগ নেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ‘মা সিএনজি স্টেশনের’ মালিক ইব্রাহীম মিয়া। আবদুস সামাদের হয়ে তিনি গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের আদেশ প্রত্যাহার ও পুনঃসংযোগ চেয়ে ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত বকেয়া পরিশোধ সাপেক্ষে সিএনজি স্টেশনটিতে পুনরায় সংযোগ দিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী জামানতের ৪ কোটি টাকা নিয়ে সংযোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিতাসের গাজীপুর বিক্রয় অফিস মাত্র এক কোটি টাকা নিয়ে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর স্টেশনটিতে সংযোগ দেয়। সিএনজি স্টেশন হস্তান্তরযোগ্য নয় জেনেও জামানতের বাকি টাকা তিন মাসে পরিশোধের শর্তে সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত তিন মাস সময় পেরিয়ে আরও দুই মাস পার হলেও শর্ত মোতাবেক টাকা আদায়ের উদ্যোগ নেননি গাজীপুর বিক্রয় অঞ্চলের কর্মকর্তারা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দুইমাস ধরে বিল পরিশোধ করছিল না। এসব জানাজানি হলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্টেশনটির গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

তিতাসের গাজীপুর অঞ্চলের সদ্য বিদায়ী উপব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘কোনোভাবেই জামানতের টাকা বকেয়া রেখে গ্যাস সংযোগ প্রদানের সুযোগ নেই। কীভাবে জামানত বকেয়া এবং বিলম্বে পরিশোধের শর্তে সংযোগ দেওয়া হয়েছিল তা ফাইল না দেখে বলা যাবে না।’

জানতে চাইলে তিতাসের গাজীপুর কার্যালয়ের ব্যাবস্থাপক অজিত চন্দ্র দে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভাড়ায় সিএনজি স্টেশন পরিচালনার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। কাগজে-কলমে লেনদেনসহ যাবতীয় কার্যক্রম আবদুস সামাদের নামেই হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং তিতাস গ্যাসের লাভের কথা চিন্তা করেই জামানতের টাকা জমা দিতে প্রতিষ্ঠানটিকে সময় দেওয়া হয়েছিল।’ সিএনজি স্টেশনটির মালিক ইব্রাহীম মিয়া বলেন, ‘জামানতের অল্প কিছু টাকা বকেয়া আছে। ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে তা খুব শিগগিরই পরিশোধ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত