ব্যাকপ্যাকে হৃৎপিণ্ড নিয়ে ঘোরা তরুণীটি আর নেই

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৯, ০৫:৪৯ পিএম

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্রী রেবেকা হেন্ডারসন। পৃথিবীর বিরলতম এক রোগে ভুগে মারা গেছেন ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখ। তবে মৃত্যুর বেদনা এখনো বয়ে চলেছে তার পরিবার ও গণমাধ্যমে। 

হৃৎপিণ্ডে ক্যানসারের মতো বিরল রোগে ভুগে চিকিৎসক, গবেষক সবার সহানুভূতি কেড়ে নিয়েছিলেন রেবেকা। তৃতীয় পর্যায়ের ক্যানসারের কারণে ডাক্তাররা বাধ্য হয় তার সম্পূর্ণ হৃৎপিণ্ড অপসারণ করতে।

কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি হৃৎপিণ্ড পাওয়া যায়নি প্রতিস্থাপনের (ট্রান্সপ্লান্টের) জন্য। ফলে তাকে কৃত্রিম হৃদ্‌যন্ত্র দেওয়া হয় যার ওজন সাত কেজি।

২০১৭ সালে তাকে এ কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড দেওয়া হয়। তিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ব্যক্তি যে কৃত্রিম হৃৎপিণ্ড নিয়ে ঘুরে বেড়াত। 

ওই হৃৎপিণ্ড তার শরীরের বাইরে থাকতে। পিঠে ব্যাগে নিয়ে এবং সেই ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে সে চলাফেরা করত রেবেকা।

ওই ব্যাগ নিয়েই নিয়মিত ক্লাস করত রেবেকা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিত। জীবনকে সে স্বাভাবিক আর দশটা মানুষের মতো উপভোগ করত, কাটাত। প্রায় এক বছর এভাবেই চলেছে।

জানুয়ারিতে ক্যানসার ভালো হয়ে যাওয়ায় তার হৃৎপিণ্ড ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রেবেকার জন্যে হৃৎপিণ্ড পাওয়া গিয়েছিল।

হঠাৎ তার কৃত্রিম হৃদ্‌যন্ত্রে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। ওই হৃৎপিণ্ডটি সময়মতো হাতে না আসায় দ্রুত ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়ে ওঠেনি রেবেকার।

পরবর্তীতে যখন ইম্প্ল্যান্ট করা হয়, তখন বেশ দেরি হয়ে গেছে। তত দিনে রেবেকার সময় ফুরিয়ে এসেছে। ফেব্রুয়ারির ২৭ তারিখ পরিবারের সব সদস্যের উপস্থিতিতে ধীরে ধীরে না ফেরার দেশে চলে যায় রেবেকা।

চিকিৎসাকালীন রেবেকা সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে জানান, ৩০ বছর বয়স হওয়ার আগেই আমি ৩০টি দেশ ঘুরে দেখতে চাই। কিন্তু এখন ভাবছি ৫০'র আগে ঘুরতে পারব। আমি শুধু বাঁচার জন্য বাঁচতে চাই না, হইচই করতে চাই।

সেন্ট অ্যানি কলেজের তার শিক্ষক বলেন, ও ছিল খুব দুর্দান্ত, রসবোধ ছিল প্রখর, বৃদ্ধিমত্তা তার সক্রিয়তাও ছিল তার খুব।

তার পরিবার জানায়, বেক্কা (পারিবারিক নাম) ছিল খুব সুন্দর, মেধাবী এবং উজ্জ্বল। তাকে মেয়ে এবং বন্ধু হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য ছিল ভাগ্যের। স্বর্গের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হয়ে সে থাকবে। আমরা তাকে আজীবন ভালোবেসে যাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত