বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নৌকা ঠেকাবে ‘বিদ্রোহীরা’

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৯, ০৯:১০ পিএম

যশোরে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আওয়ামী লীগ ও নৌকার প্রার্থীরা। উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখানে দলের নেতাকর্মীরা এখন দুই ভাগে বিভক্ত। মনোনয়নবঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা দলীয় প্রতীক নৌকাকে পরাজিত করতে নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যশোর সদর উপজেলায় তৃতীয়বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। তাকে ছাড় দিতে নারাজ সভাপতি মোহিত কুমার নাথ। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন। বিদ্রোহী মোহিত কুমার যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ফলে দলীয় রাজনীতিতে নয়া মেরুকরণ শুরু হয়েছে।

২০১৪ সালে বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছিল দলীয় কোন্দলের জেরে। এবারও সেই কোন্দল রয়েছে। নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাসান আলীকে ঠেকাতে মরিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নাজমুল ইসলাম ও রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঞ্জুর রশিদ স্বপন। তারা দুজনেই বিদ্রোহী প্রার্থী।

চৌগাছা উপজেলায় নৌকা প্রতীক পেয়েছেন ড. মোস্তানিচুর রহমান। তাকে চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হাবিবুর রহমান। এ কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।

মণিরামপুরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা যুব মহিলা লীগের সহসভাপতি নাজমা খানম। তাকে চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন লাভলু ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান খান। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘিরে তৃণমূল আওয়ামী লীগ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে।

ঝিকরগাছা উপজেলায় নৌকা প্রতীক পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আলী রায়হান। তাকে ছাড় দিতে নারাজ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম। দুই প্রার্থীকে ঘিরে উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমল পর্যায়ে বিভক্তি শুরু হয়েছে।

অভয়নগরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহ ফরিদ জাহাঙ্গীর। তাকে ছাড় দিতে নারাজ শ্রমিক লীগ নেতা রবিন অধিকারী। দুই প্রার্থীকে ঘিরে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা বিপাকে পড়েছেন।

কেশবপুরে চেয়ারম্যান পদে তৃতীয়বারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এইচ এম আমির হোসেন। তাকে চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী নেতা কাজী রফিকুল ইসলাম।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে থাকলে নৌকার প্রার্থীদের সমস্যা হবে। আমরা চেষ্টা করছি বিদ্রোহীদের বসিয়ে দেওয়ার।’ তিনি জানান, তারপরও যদি কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন, তার ব্যাপারে কেন্দ্রকে অবহিত করা হবে। কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত