বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

অনুদানের নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন ইউপি মেম্বার

আপডেট : ১২ মার্চ ২০১৯, ০৮:৩২ পিএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুমাইয়া পারভীনের বিরুদ্ধে অসহায় দুস্থদের সরকারি নানা অনুদান ও কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় প্রতারিত লোকজন বিচার দাবি করে মঙ্গলবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এর আগে সোমবারও স্থানীয় এমপি ও উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তারা এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থরা টাকা ফেরত ও প্রতারকের শান্তির দাবিতে এ দিন উল্লাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান প্রতারিতদের অভিযোগ আমলে নিয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

বড়হর ইউপি সদস্য রুমি বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছর আগে সলপ ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীন তার নিকট আত্মীয় বড়হর গ্রামের শাহাদত হোসেন ও মো. সবুজ কে দিয়ে বড়হর মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া সহ কয়েকটি গ্রাম থেকে অসহায় দুস্থদের সরকারি অনুদানের বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, সেলাইমেশিন ও বিনা মূল্যের ঘর দেওয়ার কথা বলে প্রায় শতাধিক লোকের কাছে  ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা করে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

দুঃস্থরা বিভিন্ন সমিতি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এ টাকার সবটাই তার হাতে তুলে দিলেও এখনো পর্যন্ত কোন অনুদানের সুবিধা পায়নি।

বড়হর মধ্যপাড়া গ্রামের রানু খাতুন, হাজেরা খাতুন, আলেয়া বেগম,রোকেয়া খাতুন সহ অনেকেই জানান, ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীন তার লোক দিয়ে আমাদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন সরকারি অনুদানের কথা বলে টাকা নিয়েছে। সেই সরকারি অনুদানের ভাতা, কার্ড আমরা এখনো পাইনি। টাকা চাইলেও টাকা দিচ্ছে না। এ নিয়ে আমরা ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। আমরা এর বিচার চাই।

বড়হর মধ্যপাড়া গ্রামের রাশিদা বেগম জানান, আমার ছেলের মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়ার কথা বলে বিষয়ে  ইউপি সদস্য সুমাইয়া পারভীন  ২লাখ ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। সে নিজেকে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে মামলার কাগজ ও টাকা নিয়ে তার কোন কাজই করেনি।

এ বিষয়ে সলপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুমাইয়া পারভীন জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে কারো কাছ থেকে কোন সরকারী সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা পয়সা নেইনি। আমার নাম ভাঙিয়ে কেউ টাকা পয়সা নিলে এ জন্য আমি দায়ী নয়। আমার প্রতিপক্ষ একটি মহল এ ঘটনায় আমাকে অন্যায়ভাবে জড়াচ্ছে। 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান জানান, দুঃস্থরা তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত