ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচ প্রার্থীর বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার চেয়ে রোকেয়া হলের ছাত্রীরা যে বিক্ষোভ করেছেন তাতে সমর্থন দিয়েছে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে নির্বাচিত তিনটি হলের প্রার্থীরা।
একই সঙ্গে ফলাফল বাতিল করে নতুন করে রোকেয়া হল নির্বাচন চেয়েছেন তারা। বুধবার বিকেলে টিএসসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।
এতে উপস্থিত শামসুন্নাহার হলের সাধারণ সম্পাদক আফসানা ছপা বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত থেকে আমাদের বোনরা যে দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে আসছেন আমরা তাতে পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছি। আমরা নতুন করে রোকেয়া হলের নির্বাচন দাবি করি।
সুফিয়া কামাল হলের জিএস মনিরা শারমিন বলেন, আমরা রোকেয়া হলের স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। তাদের সব যৌক্তিক দাবির বিষয়ে আমাদের সমর্থন আছে। আমরা ক্যাম্পাসে অস্থিরতা চাই না। তবে যারা অস্থিরতা ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে।
রোকেয়া হলে পুনর্নির্বাচন চাইলেও তারা যেসব হলে জয়ী হয়েছেন সেগুলোয় নতুন নির্বাচন চান না। এ ছাড়া নির্বাচন বাতিল চেয়ে বামজোট ও স্বতন্ত্র প্যানেল যেসব প্রার্থী অনশন করছেন তাদের প্রতিও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল, শামসুন্নাহার হল ও কবি সুফিয়া কামাল হলের ভিপি-জিএসসহ হল সংসদে জয়ী প্রার্থীরা।
নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে ১১ মার্চ কোটা আন্দোলনের ভিপি প্রার্থী নুরুল হক, বামজোটের প্রার্থী লিটন নন্দীসহ বেশ কয়েকজন রোকেয়া হলের একটি কক্ষের তালা ভেঙে সিলগালা করা ট্রাংক থেকে পাওয়া সাদা ব্যালট পেপার বের করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেন। ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রলীগের কর্মীদের আক্রমণের শিকার হন নুর। পরে প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে নুর, লিটন নন্দী, উম্মে হাবিবা বেনজিরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী মারজুকা রায়না।
এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন রোকেয়া হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি ছাত্রলীগের ইন্ধনে এ মামলা করা হয়েছে। এ জন্য রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদার পদত্যাগ চেয়ে এ হলে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার দাবি করেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া নুরসহ পাঁচজনের মামলা প্রত্যাহার চেয়েছেন তারা। বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা রাতে হলে ভাঙচুর চালান।
বুধবার সকাল পর্যন্ত তারা একই দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
