‘আমার ভাইয়ের বয়স যখন ১ বছর তখন বাবা মারা গেছে, মা বহু কষ্ট করে আমাদের দুই ভাই এক বোনকে মানুষ করেছেন। ও দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। কিন্তু সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই হাল! এটা নাকি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড? কী করে হয় বলুন, এখানকার শিক্ষকরা আমার ভাইকে না খাইয়ে মেরে ফেলতে চায়। চোখের সামনে ভাইয়ের এমন অবস্থা দেখতে কষ্ট হলেও আমি ওদের দাবির প্রতি সংহতি জানাই’।
কথাগুলো ফয়সাল মাহমুদ নামে ময়মনসিংহের এক যুবকের। তার ছোট ভাই সোয়েব মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সোমবার অনুষ্ঠিত ডক্টর মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হল সংসদ নির্বাচনে প্রগতিশীল ছাত্র ঐক্য মনোনীত সাহিত্য সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন সোয়েব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ওই দিন ভোট বর্জন করে তার প্যানেল। পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে মিলে নতুন নির্বাচনের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বসেছেন আমরণ অনশনে। বুধবার দুপুরে কথা হয় ফয়সাল মাহমুদের সঙ্গে।
দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘সোয়েবের অনশনে মা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। ওর অবস্থাও খারাপ। এখন আমার কী করা উচিত বুঝতেছি না’।
ফয়সালের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল তখন পাশে রাজু ভাস্কর্যের পাঁচিলে হেলান দিয়ে ছিলেন সোয়েব। কথা বলতে চাইলে বলেন, ‘ভাই মাথা ঘোরায়, শরীর চলে না। তিন দিন পানি ছাড়া পেটে কিছু যায়নি। এখন পানিও খেতে ইচ্ছে করছে না, বমি আসে। তবে আমি মরে গেলেও অনশন ভাঙব না, যতক্ষণ উপাচার্য এসে নতুন নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি না দেবেন’।
দুপুরে পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুপুরের খাঁ খাঁ রোদে মাথার ওপর একটি ছোট তাঁবু টানিয়ে শুয়ে আছেন কয়েকজন অনশনকারী। তাদের দেখতে আসা সহপাঠীরা খাতা, বই দিয়ে তাদের বাতাস করছেন। আসার সময় তারা যে পানি নিয়ে এসেছেন সেটাই তাদের ভরসা।
ডাকসু’র নতুন তফসিল এবং ‘ভোট জালিয়াতিতে’ যুক্তদের ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগের দাবিতে এ আন্দোলনে অনশনে বসেছে মোট আটজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে অনিন্দ্য মণ্ডল বুধবার অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
পরে হাসপাতাল থেকে তাকে জগন্নাথ হলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তার অবস্থা সুবিধাজনক নয় বলে জানিয়েছেন অনশনকারীরা। অনিন্দ্য ছাড়াও পাঁচজন প্রার্থী ও দুই ভোটার আমরণ অনশনে বসেছেন।
অনশনকারী মীম আরাফাত মানব বলেন, মরে যেতে তো দেবে না বলে মনে হয়। তার আগেই হাসপাতালে নিয়ে যাবে। যা হওয়ার হোক, নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করতে হবে। না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে।
