নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় প্রায় অর্ধশত মুসল্লি নিহতের ঘটনায় শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের আগে উগ্রপন্থিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যার ঘটনার পরপরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, রাষ্ট্র ও নেতাদের পক্ষ থেকে সমবেদনা প্রকাশ করা হয়।
হামলার পর এর নিন্দা ও নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানান নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্দা আর্ডের্ন। দিনটিকে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটা স্পষ্টতই একটা সন্ত্রাসী হামলা। ক্রাইস্টচার্চে যা ঘটেছে তা নজিরবিহীন সহিংস আচরণ। নিউজিল্যান্ডে এ ধরনের আচরণের স্থান নেই। ক্ষতিগ্রস্তদের বেশিরভাগই প্রবাসী সম্প্রদায়ের, নিউজিল্যান্ড তাদের বাড়ি, তারা আমাদেরই লোক।’
মূল হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে (২৮) নিজ দেশের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, ‘সে একজন চরমপন্থি, ডানপন্থি উগ্র সন্ত্রাসী।’ তিনি এই হামলার নিন্দা জানিয়ে হতাহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ। বিবৃতিতে রানী ও প্রিন্স ফিলিপের পক্ষ থেকে হতাহত ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এ হামলার ঘটনাকে ইসলামবিদ্বেষের চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মসজিদে হামলাকে বর্ণবাদী ও ফ্যাসিবাদী হিসেবেও উল্লেখ করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এ হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। এক টুইটে তিনি বলেন, ১/১১ পরবর্তী ‘ইসলামফোবিয়া’ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রেক্ষিতেই নিউজিল্যান্ডে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, আমরা সব সময়ই বলে আসছি সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় গভীর শোক জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ওআইসি (ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা), ওয়ার্ল্ড মুসলিম লিগ, মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তাদের পক্ষ থেকে দায়ীদের বিচার ও নিউজিল্যান্ডে অবস্থানরত মুসলিমদের নিরাপত্তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শুক্রবার এক টেলিগ্রাম বিবৃতিতে হতাহতদের প্রতি শোক ও মসজিদে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় গুরু ভ্যাটিকানের পোপ ফ্রান্সিস।
