প্রযুক্তি পরিবর্তনের কথা বলে কর্মী ছাঁটাই না করে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (জিপিইইউ) নেতারা।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন তারা। আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষকে কাজে লাগিয়ে কর্মরতদের ছাঁটাইয়ের প্রবণতা রুখতে সবার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন নেতারা।
২০১২ সালে ব্যাপক কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রেক্ষিতে গ্রামীণফোনের কর্মীরা একতাবদ্ধ হয়ে চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে আইনি প্রক্রিয়া মেনে একটি ইউনিয়ন গঠন করে এবং রেজিস্ট্রেশন এর জন্য আবেদন করে। এরপর দীর্ঘ ৭ বছর আইনি লড়াইয়ের পর গত ৭ মার্চ ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন পেয়েছে সংগঠনটি। এ কারণে পরবর্তী পদক্ষেপ, কর্মপরিকল্পনাসহ নানা বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইউনিয়নটি।
জিপিইইউ এর সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদ বলেন, কমন ডেলিভারি সেন্টার (সিডিসি) নামের একটি প্রজেক্ট চালু করার কথা চলছে। যার মাধ্যমে আউটসোর্সিং করে তৃতীয় পক্ষকে কাজে লাগিয়ে কর্মরত কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার সম্ভাবনা থাকবে। কিন্তু আমাদের মতে এ ক্ষেত্রে আমাদের বিপিও (বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং) সেক্টর অনেক এগিয়ে রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় বিদেশিদের ডেকে এনে কাজ দিতে হবে না। বরং আমাদের দেশেই কর্মী বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
গ্রামীণফোনর অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে মুনাফার পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নের দিকেও কোম্পানিকে মনোনিবেশ করতে হবে বলেও জানান মিয়া মাসুদ।
বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে মিয়া মাসুদ বলেন, সুনাগরিক হিসেবে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আমাদের নেই। বরং আরও বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমরা বিশেষ ভূমিকা রাখতে চাই। দেশের উন্নয়ন ও জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে চাই। সরকারের ভিশন- ২০২১ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ও গ্রামীণফোন লিমিটেড সরকারের গৃহীত সকল উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সহায়ক ভূমিকা পালনে বদ্ধপরিকর।
ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলুল হক বলেন, কর্মী ছাঁটাই নয় বরং কর্মীদের উপযুক্ত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আমরা লড়াই করে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা খুবই দৃঢ় এবং মজবুত। সবাই এ সূত্রে কাজ করলে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে এই রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির পথ চলায় অনেক কষ্ট, ঘাম ও আইনি লড়াই খুব সহজ ছিল না। অনেকটা লগি বইঠা দিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার মতো অবস্থা। এই কঠিন যাত্রায় জিপিইইউ প্রতিষ্ঠানটির রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তিতে সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সভাপতি ফজলুল হক, প্রচার সম্পাদক মো. রফিকুল কবীর আতিকুজ্জামান মির্জা, ইমরুল কায়েস, রাজু সিনহা, মাজহারুল ইসলাম।
