নিউ জিল্যান্ডে ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে খ্রিস্টান চরমপন্থীর বন্দুক হামলায় ৫০ জন মুসল্লি নিহত হন। এ ঘটনায় শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেনটন ট্যারেন্টকে আটকাতে এগিয়ে আসেন বেশ কয়েকজন মুসল্লি। অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে বুকে বন্দুক টেনে নিয়ে মারা যান পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের দুই নাগরিক। তারা দুইজনেই বীর হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছেন। ট্যারেন্টকে আটকাতে এগিয়ে আসেন আরও একজন আফগান।
আফগানিস্তানের নাগরিক আব্দুল আজিজ ওয়াহাবজাদাহ মুসল্লিদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। সাহসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যান সশস্ত্র সন্ত্রাসীর সামনে। ওয়াহাবজাদাহ বন্দুকধারী ট্যারেন্টকে থামাতে তার দিকে ছুঁড়ে মেরেছিলেন কার্ড পেমেন্ট মেশিন।
দ্য ন্যাশনাল জানায়, ইতিমধ্যে বীর হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী এ আফগান। তিনি বলেন, “আমি কোনো বীরত্বের কাজ করিনি। একজন মানুষ হিসেবে আমার যা করা উচিত ছিল, সে সময় সেটিই আমি করেছি।”
তিন দশক ধরে নিউ জিল্যান্ডে বাস করছেন ওয়াহাবজাদাহ। একটি দোকান চালান তিনি। শুক্রবার চার শিশুকে নিয়ে লিনউড ইসলামিক সেন্টার মসজিদে তিনি জুমার নামাজ পড়তে যান।
দুপুর দুইটার সামান্য আগে ওই মসজিদে হামলা চালায় ট্যারেন্ট। তার কিছুক্ষণ আগে সাত কিলোমিটার দূরে আল নুর মসজিদে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৪২ জন মুসল্লিকে হত্যা করেছে সে।
ওয়াহাবজাদাহ বলেন, “আমি প্রথমে তাকে দেখে মনে করেছিলাম, সে মজা করছে।” তার হাতে বন্দুক দেখে ফ্র্যাঙ্ক হিসেবেই নেন তিনি।
তিনি বলেন, “তখন কেউ চিৎকার করে বলছিল- সে বাইরে মানুষকে গুলি করেছে।” তিনি দৌড়ে বাইরে গিয়ে দেখেন, ইতিমধ্যে ট্যারেন্ট তিনজনকে হত্যা করে ফেলেছে। তখন মসজিদের দরজার পাশ থেকে কার্ড পেমেন্ট মেশিন তুলে নিয়ে বন্দুকধারীর দিকে ছুটতে থাকেন এই আফগান।
তিনি বলেন, “আমি দৌড়ে বাইরে আসলাম। তখন সামরিক বাহিনীর পোশাক পরিহিত তাকে দেখেই বুঝলাম, সে কোনো পুলিশ বা সামরিক বাহিনীর কেউ না। ওই লোক তখন আমার দিকে গালিগালাজ করতে করতে এগিয়ে আসছিল। তখন আমি তাকে কার্ড মেশিনটি ছুঁড়ে মারলাম।”
এরপর তার চার শিশুর একজনের চিৎকার শুনে মসজিদের একপাশে দৌড়ে গেলে, সেখানে এক মৃতদেহের পাশে একটি শটগান পড়ে থাকতে দেখেন ওয়াহাবজাদাহ। শটগানটি নিয়ে ট্রিগার চাপতে গিয়েই দেখেন এতে গুলি নেই। এরপরেও তিনি বন্দুকটি উঁচিয়ে ধরে সন্ত্রাসী ট্যারেন্টকে মনোযোগ আকর্ষণ করতে তাকে ডাকতে শুরু করলেন। এক পর্যায়ে ট্যারন্ট ওই জায়গা ত্যাগ করে।
ওয়াহাবজাদাহর এমন দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডে বীর হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছেন তিনি। লিনউড মসজিদের ইমাম লাতিফ আলাবি বলেন, “ওয়াহাবজাদাহ যদি এইভাবে এগিয়ে না আসতেন, তাহলে আরও বেশি মানুষ নিহত হতো।”
তিনি বলেন, “কোনোভাবেই যদি বন্দুকধারী মসজিদের ভেতরে চলে আসত তাহলে আমরা কেউই বাঁচতাম না।”
