রাঙামাটিতে সন্ত্রাসী হামলায় নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ নিহত ৬

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৯, ০৭:২৩ পিএম

রাঙামাটির সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে নির্বাচন শেষে ফেরার পথে দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের নয়মাইল এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৬ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আরো ১৬ জন আহত হয়েছেন।  নিহত ও আহতদের বেশিরভাগ নির্বাচনের দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন।

নিহতরা হলেন- ভিডিপি মো. আল আমিন (১৭), ভিডিপি ইউনিয়ন লিডার বিলকিস (৪০), ভিডিপি দলনেতা মিহির কান্তি দত্ত (৪০), ভিডিপি জাহানারা বেগম, শিক্ষক মো. আমির হোসেন (৪০), পথচারী মন্টু চাকমা (২৭)।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, আহতদের মধ্যে গুরুতর ১৪ জনকে বিজিবির হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আহত অন্য দুজন বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফিউল্লাহ রাত সাড়ে আটটায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম কংলাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাঘাইহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র থেকে সারা দিন দায়িত্ব পালন শেষে বিজিবির পাহরায় গাড়িবহর নিয়ে ফিরছিলেন নির্বাচনী কর্মীরা। এ সময় দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের নয়মাইল এলাকায় তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম জানা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, সাজেক ইউনিয়নের তিনটি কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ নির্বাচন কর্মকর্তারা সহযোগী আনসার ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিজিবি পাহরায় বাঘাইছড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তিনটি চাঁদের গাড়িতে থাকা নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর ব্রাশফায়ার করা হলে দ্বিতীয় গাড়িটি আক্রান্ত হয়। এ সময় চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে গাড়িটি বাঘাইছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে গাড়ি থেকে তাদের নামানোর পর একের পর এক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে থাকেন গুলিবিদ্ধরা।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাদিম সারোয়ার জানিয়েছেন, তিনটি কেন্দ্রে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে তারা সবাই ফিরছিলেন। তখন তাদের ওপর নয়মাইল এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।

বাঘাইছড়ি থানার ওসি আবদুল মনজুর আলম জানিয়েছেন, রাত নয়টার পর আহত ১৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছে। 

নির্বাচনে অংশ নেওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুদর্শন চাকমা এ ঘটনায় জনসংহতি সমিতি (সন্তু লারমা) ও ইউপিডিএফকে দায়ী করে বলেন, বড়ঋষি চাকমা নিশ্চিত পরাজয় জেনে সকালে নির্বাচন বর্জনের নাটক করার পর সন্ধ্যায় সরকারি কাজে নিয়োজিতদের ওপর এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চাকমা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের দূরতম সম্পর্কও নেই। কারণ ওই এলাকায় আমাদের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম বা অবস্থান নেই। ওটা পুরোটাই ইউপিডিএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা। আর আমরা যেহেতু সকালেই নির্বাচন বর্জন করেছি এবং লিখিতভাবে আমাদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি,আমরা কেন এমন কাজ করব। আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী,গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই আমাদের আস্থা আছে।

অন্যদিকে ইউপিডিএফ মুখপাত্র মাইকেল চাকমা জানিয়েছেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা সুস্থ মস্তিষ্কের কারও কাজ নয়। এই নির্বাচনে আমাদের এখানে কোনো প্রার্থীও ছিল না। আমরা কেন এই কাজ করতে যাব?’

এই উপজেলায় জাতীয় কোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিলেন সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রভাবশালী নেতা ও বর্তমান চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) অন্যতম শীর্ষ নেতা সুদর্শন চাকমা। এই দুই নেতার ভোটযুদ্ধ নিয়ে উত্তাপ ছিল সেখানে। ভোটের প্রচারণার মধ্যেই গত ৩ মার্চ তারিখ উপজেলার বঙ্গলতলিতে হামলায় নিহত হন জনসংহতি সমিতির গুরুত্বপূর্ণ নেতা উদয় জয় চাকমা চিক্কোধন।

সর্বশেষ ভোটের দিন সকালেই নির্বাচনে অনিয়ম, ভোট ও কেন্দ্র দখল এবং চারটি কেন্দ্রে রাতেই ভোট দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ এনে সকাল দশটায় ভোট বর্জন করেন জনসংহতি সমিতির প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত