নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস মাঠে সাদ পন্থী তাবলীগ জামায়াতের তিন দিনের ইজতেমা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে সাদ বিরোধীরা।
সোমবার দুপুরে নীলফামারীর জোড় দরগাহ কওমি মাদ্রাসা থেকে সাদ বিরোধীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহর প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধন শেষে সেখানে নীলফামারী দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস্ মাদ্রাসার মহতামীম মাওলানা আমিন উল্লাহ্’র সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে নীলফামারী বড় মসজিদের খতিব মাওলানা আশরাফুল ইসলাম নুরী, সৈয়দপুর জামে আরাবিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক মুফতি আবু বক্কর সিদ্দিক, মাওলানা আবুল কালাম কাশেমী, দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস্ মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আনিছুর রহমানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশে শেষে ইজতেমা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন সাদ বিরোধীরা।
সৈয়দপুর জামে আরাবিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক মুফতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সাদ পন্থীদের এই ইজতেমা ষড়যন্ত্রমূলক। তারা ইসলামের ঈমান ও আক্বীদাহ ধ্বংস করতেই এই ইজতেমা আয়োজন করেছে। ঈমান ও আক্বীদাহ ধ্বংসকারী এবং জনসাধারণকে বিভ্রান্তিতে ফেলা এই ইজতেমা বন্ধের দাবি জানিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী এবং ১৩ মার্চ জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারক লিপি দিয়েছি। কিন্তু ইজতেমা বন্ধের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সাদ পন্থীদের এই ইজতেমা শুরু হলে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের ঘটনা ঘটবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন বলেন, ইজতেমা বন্ধের দাবিতে সাদ বিরোধীরা একটি স্মারক লিপি জমা দিয়েছেন। বিষয়টির সঙ্গে যেহেতু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন জড়িত, তাই তা ক্ষতিয়ে দেখতে পুলিশ সুপারের মতামতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মুহাম্মাদ আশরাফ হোসেন বলেন, বিষয়টি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, তাবলীগ জামায়াত সাদ পন্থী অনুসারীরা নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস মাঠে আগামী ২১ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত তিন দিন ব্যাপী ইজতেমা আয়োজন করছে। ইতিমধ্যে সেখানে প্যান্ডেল তৈরিসহ ইজতেমার সকল প্রস্তুতি শুরু করেছে।
