বরিশালের বানারীপাড়ায় বাস ও মাহেন্দ্রর মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫জনে দাড়িয়েঁছে। নিহতদের মধ্যে ২ নারী রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৬ যাত্রী। খবর পেয়ে বিমানবন্দর থানা পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে শের-ইবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বানারীপাড়া সড়কের তেতুলতলা এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে একটি মাহেন্দ্র (থ্রি হুইলার) অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা যাচ্ছিল।
অপরদিকে বানারীপাড়া থেকে সেবা পরিবহনের দুর্জয় নামে একটি বাস বরিশাল নগরীর দিকে আসছিল। পথে তেতুলতলা এলাকা অতিক্রমকালে বিপরীতমুখি বাস ও মাহেন্দ্র আলফার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি না থামিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মাহেন্দ্র আলফাকে চাপা দিয়ে গন্তব্যের দিকে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় জনতা হতাহতদের উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
হাসপাতালে পৌঁছার পর কর্তব্যতর চিকিৎসক মাহেন্দ্র আলফার যাত্রী নগরীর কাশীপুর এলাকার মো. খোকন (৩০) ও গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহেন্দ্র চালক মো. সোহেল (২৫), ঝালকাঠীর বাসিন্দা বরিশাল ব্রজমোহণ (বিএম) কলেজের গণিত বিভাগের স্নাতকোত্তর প্রথম বর্ষের ছাত্রী শিলা হালদার (২৪), বাকেরগঞ্জের মানিক সিকদার (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা এক নারীকে (৫০) মৃত ষোষণা করেন।
আহতদের মধ্যে বাবুগঞ্জের দুর্গাসাগর এলাকার মোকলেছ হাওলাদারের স্ত্রী পারভীন বেগম (৩০), তার শিশু ছেলে তাইউম (৭), তন্নী আক্তার (১৭), ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র মো. সুমন (২৫), দুলাল হাওলাদার (৩০) এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের এক ছেলে শিশুকে (৭) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ক্ষুব্ধ স্বজনদের অভিযোগ করেন, দুর্জয় পরিবহন নামে ওই বাসের বেপরোয়া চলাচলের কারণেই প্রাণ গেছে ৫ যাত্রীর। মুখোমুখি সংঘর্ষের পরও বাসটি সেখানে না থামিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মাহেন্দ্র চাপা দিয়ে গন্তব্যে পালিয়ে যাওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। স্বজনরা বাস চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রহমান মুকুল বলেন, “দুর্ঘটনার পর বাসটি পালিয়ে যাওয়ায় চালককে আটক করা যায়নি। তবে বাসটি সনাক্ত করে চালক আটকের চেষ্টা চলছে। নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
