ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে উত্তরখানের শাহীন গ্রুপ ও মেহেদি গ্রুপের দ্বন্দ্বে খুন হয় স্কুলছাত্র কামরুল ইসলাম হৃদয় (১৪)। এ ঘটনায় পুলিশ মেহেদি গ্রুপের মেহেদি ও সাব্বিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
উত্তরখান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নাসির উদ্দিন শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছেন। এদিন দুপুরে দক্ষিণখানের ট্রান্সমিটার মোড়ে হৃদয়ের বাসায় গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। মা লাবণি আক্তার ও বাবা কামাল হোসেনের কান্না আর আহাজারিতে এলাকার শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত হৃদয়ের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হৃদয়ের চাকা মুসলিম উদ্দিন বাবুল দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৃহস্পতিবার সাড়ে ৫টায় ঢাকার দক্ষিণ খান থানার হাডিপাড়ার বড়ভাগ বহরাটেক খেলার মাঠে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে দুই কিশোর গ্রুপের সংঘর্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন তার ভাতিজা হৃদয়।
তিনি জানান, নিহত হৃদয় মা-বাবা সঙ্গে দক্ষিণ খানের ট্রান্সমিটার মোড়ে মিজানুর রহমানের বাড়িতে ভাড়া থাকত। হৃদয়ের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানায়। সে দক্ষিণ খানের চাইল্ড ল্যাবরেটরি স্কুলে ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়া কর ছিল।
বাবুল আরও জানান, ক্রিকেট খেলা নিয়ে কিছুদিন আগে প্রতিপক্ষ শাহীন গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ হয়। সাব্বির ও শাহীনসহ কয়েকজন হৃদয়কে মাঠ থেকে উঠে যেতে বলার পর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে এক যুবক হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করে। এতে হৃদয় সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। হৃদয়ের মা-বাবাসহ আত্মীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা হৃদয়কে মৃত ঘোষণা করেন। পরে শুক্রবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়।
হৃদয়ের মা লাবণি আক্তার জানান, ৫ থেকে ৬ মাস আগে এই কিশোর গ্যাংটি হৃদয়ের একটি মোবাইল ফোন সেট জোর কেড়ে নিয়েছিল। তার ছেলে সেখানে খেলতে যেতো। সে কোন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না।
হৃদয়ের বাবা কামাল হোসেন জানান, শুক্রবার পর্যন্ত তারা কোন মামলা করেননি। তারা গ্রামের বাড়িতে নোয়াখালী জেলার সেনবাগে লাশ নিয়ে গেছেন। সেখানে দাফন করে ঢাকায় ফিরে মামলা করবেন।
উত্তরখান থানার শফিউল আলম জানান, প্রাথমিকভাবে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে কিশোরদের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে খুন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত হৃদয়ের পরিবার এখনো মামলা করেনি। মামলার পর এ বিষয়ে তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। সুরত হালে ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণজনিত কারণে মৃত্যু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
