সুবর্ণচরে ধর্ষণ: রুহুল আমীনের জামিন প্রত্যাহার করল একই বেঞ্চ

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ১২:৩১ পিএম

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের রাতে নোয়াখালীর সুবর্ণচরে চল্লিশোর্ধ্ব এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের মামলার আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা রুহুল আমীনকে দেওয়া জামিন প্রত্যাহার করে নিয়েছে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ।

শনিবার বিচারপতি মো. মামনুন রহমান ও এস এম কুদ্দুস জামানের যুগ্ম-বেঞ্চ খাস কামরায় আদালত বসিয়ে রুহুল আমীনের জামিন প্রত্যাহারের আদেশ দেয়।

হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, “রুহুল আমীনকে হাইকোর্টের যেই বেঞ্চ জামিনের আদেশ দিয়েছিলেন, আজ তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালত।”

তিনি বলেন, “আগামী সোমবার এ বিষয়ে হাইকোর্টের একই বেঞ্চে পুনরায় শুনানি হবে।”

এর আগে আসামি রুহুল আমীনের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে গত সোমবার হাইকোর্ট বেঞ্চ তাকে এক বছরের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়ার পাশাপাশি রুলও জারি করে।

তখন জামিনের বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, “আসামিপক্ষের আইনজীবী গত ১২ মার্চ তাদের আবেদনের নথি আমাদের দেয়। এতে যে আদালতে তারা জামিন শুনানির বিষয়টি উল্লেখ করেছিল পরবর্তী সময়ে সেই বেঞ্চে না করে হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে এটি উপস্থাপন করে। অনেকটা ধোঁয়াশার মধ্যে রেখেই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা একটি আদালতের কথা বলে আরেকটি আদালতে এটি উপস্থাপন করে।”

তিনি বলেন, “বিষয়টি জানার পরই আমরা আপত্তি জানাই এবং জামিন আবেদনের বিরোধিতা করি।”

নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ ও স্বজনদের অভিযোগ, গত বছর ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ওই নারীর ধানের শীষে ভোট দেওয়ার বিষয়টি জেনে তাকে হুমকি দেয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ৫ নম্বর চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুহুল আমীন। পরে একই রাতে রুহুলের নেতৃত্বে ১০ জন ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে স্বামী-সন্তানদের বেঁধে রেখে তাকে ঘরের বাইরে এনে দলবদ্ধ ধর্ষণ করে। এ সময় তার স্বামী-সন্তানদের পিটিয়ে জখম করে আসামিরা।

পরদিন সকালে ওই নারীকে নোয়াখালী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও পিটিয়ে জখম করার আলামত পাওয়ার কথা জানান চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় চরজব্বার থানায় একটি মামলা করেন ওই নারীর স্বামী।

কিন্তু রুহুল আমীনকে আসামি করতে না পারায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুকের কাছে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন ওই নারী। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরে গত ২ জানুয়ারি গভীর রাতে রুহুল আমীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ মামলার রুহুলসহ ১০ জনকে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি রুহুল আমীনকে সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত