ঘরে ঢুকে বেধড়ক পিটুনির পর হুমকি- ‘পাকিস্তান চলে যাও’

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ০২:৫৩ পিএম

ভারতে মেহমানসহ এক মুসলিম পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে চরমপন্থী হিন্দুরা। সেই সঙ্গে তাদেরকে দেশ ছেড়ে পাকিস্তান চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ভারতের নয়াদিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল গুরগাঁওয়ে হোলি উৎসবের দিন সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় ধামাসাপুর গ্রামে এ ঘটনায় ওই মুসলিম পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ সাজিদ স্থানীয় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

জানা গেছে, ঘরের কাছেই একটি খালি প্লটে ক্রিকেট খেলছিল মুসলিম পরিবারটির ছেলেরা। ওই সময় দুই অপরিচিত লোক বাইকে করে এসে তাদের খেলাতে বাধা দিয়ে বলে, এখানে কিসের খেলা? যাও, পাকিস্তানে গিয়ে খেল।

এমন সময় সাজিদ প্রতিবাদ করলে তারা তাকে মারধর করে চলে যায়। হুমকি দিয়ে যায় তাকে দেখে নেওয়ার।

এ ঘটনার ১০ মিনিট পরেই ২০-২৫ জন মানুষ বাইকে চড়ে এসে তাদের ঘরে হামলা চালায়। লাঠিসোঁটা, লোহার রড, ধারালো ছুরি ও তলোয়ার নিয়ে ঘরে থাকা পুরুষদের মারাত্মকভাবে আঘাত করে। মুসলিম পরিবারটিকে ঘর খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নয়তো ঘরে দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

এক ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা মুসলিম পরিবারটির পুরুষদের মারধর করছে এবং শিশুদের ধাক্কা দিচ্ছে। ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র কেড়ে নিতেও দেখা যায় তাদের।

বন্দসি থানার পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, দাঙ্গা, অবৈধ সমাবেশ, হত্যার চেষ্টা, মারধর, জিনিসপত্র ক্ষয়ক্ষতি, ঘরে অনধিকার প্রবেশ, ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে একটি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সাজিদের স্ত্রী সামিনা বলেন, “তারা আমাদের পুরুষদের অন্যায়ভাবে মারছিল। আমি অনেক অনুরোধ করলাম। তারা আমার কথা শুনলোই না।”

তিনি আরও বলেন, “তারা ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে, ঘরের সামনে থাকা আমাদের গাড়িও ভাঙচুর করে। স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী জোরপূর্বক কেড়ে নিয়ে যায়। ঘরে থাকা ২৫ হাজার রুপিও তারা কেড়ে নিয়েছে।”

উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা মোহাম্মদ সাজিদ তিন বছর আগে এ এলাকায় এসে বসতি গড়েন। তিনি ছয় সন্তানের বাবা। গ্যাস সিলিন্ডার, পুরোনো ফার্নিচার মেরামত ও নির্মাণকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন সাজিদ।

তিনি বলেন, “তিন বছর ধরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এ এলাকায় আছি। এমন ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত