স্বামীর গলা কেটে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ, স্ত্রী আটক

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ০৭:৪৩ পিএম

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ঘুমন্ত স্বামীকে গলা কেটে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাধাল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

আহত স্বামী রোমান মৃধা (২৮) দক্ষিণ বাধাল গ্রামের নাজির আহম্মেদ মৃধার ছেলে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি যশোরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী।

এঘটনায় শনিবার সকালে পুলিশ পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলার পল্লিমঙ্গল এলাকা থেকে রোমান মৃধার স্ত্রী কুমকুম আক্তার শিমুকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানায়, কুমকুম নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার কোটকোল এলাকার প্রয়াত শেখ হারুন অর রশিদের মেয়ে। প্রেমের সম্পর্কে রোমানের সঙ্গে প্রায় ৮ মাস আগে বিয়ে হয় কুমকুমের। তবে বিয়ে হলেও দুই পরিবারের মধ্যে কোন যোগাযোগ ছিল না।

এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে আহত রোমান মৃধার মা রেণু বেগম বাদী হয়ে পুত্রবধূ কুমকুম আক্তার শিমুর বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন।

রেনু বেগম সাংবাদিকদের বলেন, রাত আনুমানিক তিনটা, সোয়া তিনটার দিকে ঘরের মধ্যে গোঙানির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। তখন ছেলের থাকার ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখি রোমানকে লেপ দিয়ে ঢেকে রাখা। ঘরের মেঝে ও বিছানা রক্তে ভেজা। লেপ সরিয়ে ছেলেকে গলা কাটা অবস্থায় দেখে তারা চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করায় আসে পাশের লোকজন এগিয়ে আসে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মাঝে ছেলেবউ শিমু পালিয়ে যায়।

রোমানের মায়ের ভাষ্য, মুঠোফোনে প্রেমের সূত্র ধরে শিমুকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে তার ছেলে।

এদিকে গ্রেপ্তারের পর কুমকুম পুলিশের কাছে দাবি করেছে, বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করত। শুক্রবার দিনগত রাতে স্বামী তাকে দা দিয়ে কোপ দিতে গেলে সে তার কাছ থেকে দা কেড়ে নিয়ে পাল্টা কোপ দেয়।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার সরকার এই প্রতিবেদককে বলেন, পুলিশ ঘটনার পর অভিযুক্ত ওই গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করেছে। খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে আহত রোমানের চিকিৎসা চলছে। এঘটনায় আহতের মা বাদী হয়ে তার পুত্রবধূর বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত