এয়ারলাইন স্থাপনের স্বপ্ন

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৯, ১০:৩১ পিএম

ইংরেজিতে ‘মাই এইম ইন লাইফ’, বাংলায় ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’ অন্তত গত ১০০ বছরে এই শিরোনামের একটি রচনা উপলক্ষে চার পুরুষ ধরে আমাদের কাউকে না কাউকে লিখতে হয়েছে। প্রায় সবগুলো রচনার উপসংহার মোটামুটি একই ধরনের : ‘আমার জীবনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করিয়া পিতামাতার সুখ উজ্জ্বল করিব, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটাইব,  বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের (আমাদের শৈশবের দিনগুলোতে পাকিস্তানের, তারও আগে ব্রিটিশ ভারতের) মর্যাদা সমুন্নত করিব।’

আমাদের রচনা শিক্ষার আকরগ্রন্থ হচ্ছে ব্যাকরণ ও রচনা বই। আমি কী হতে চাই তা নির্ধারণ করে দেয় রচনা বই। এর সঙ্গে আমার স্বপ্ন, আগ্রহ ও বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম শ্রেণিতে যারা ডাক্তার হওয়ার রচনা পুরোপুরি মুখস্থ করে রেখেছে, নবম শ্রেণিতে এসে সে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার সুযোগই পেল না। যে মেয়েটি নার্স হওয়ার রচনাটি পড়ে ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল হতে চেয়েছে সে হয়ে পড়ল বাল্যবিয়ের শিকার। রচনা বই জীবনের যে সব লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষক, প্রকৌশলী, রাজনৈতিক নেতা (এই নেতা শেরে বাংলার মতো ঋণসালিশি বোর্ড স্থাপন করে বাংলার দুঃখী কৃষকদের মহাজনের ঋণ থেকে মুক্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করে)। কবি হয়ে জাতিকে প্রেরণা দেওয়ার স্বপ্নের কথাও আছে এসব বইয়ে। উড়োজাহাজের পাইলট আছে। স্কুলবালকের জন্য পাইলট হওয়ার স্বপ্নের থ্রিল অনেক বেশি। পাইলট হওয়ার স্বপ্ন দেখা কেউ কেউ পাইলট হয়েছেও। অস্ট্রেলিয়ার দশ বছর বয়সী স্কুলবালক অ্যালেক্স জ্যাকো পাইলট হতে চায়নি, চেয়েছে এয়ারলাইন চালু করতে। এটা মানতেই এমনকি অস্ট্রেলীয় স্কুল পাঠ্য কোনো বইয়ে জীবনের লক্ষ্য ‘এয়ারলাইন চালু করা’Ñ এমন রচনা পাওয়া যাবে না। কিন্তু অ্যালেক্স যে তাই করতে চেয়েছে যারা উড়োজাহাজ দুনিয়ার খোঁজখবর রাখেন তাদের সবাই জানেন।

অ্যালেক্স তার শিক্ষকদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার কথা জানে বলেই এ কাজের জন্য তাদের কারও পরামর্শ চায়নি। পেশাগত পরামর্শ তো কাক্সিক্ষত পেশাদারের পক্ষেই দেওয়া সম্ভব। সুতরাং অ্যালেক্স চিঠি লিখল অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ সংস্থা কান্টাস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যালান জয়েনের কাছে। সেই চিঠিটির অনূদিত অংশ :

প্রিয় অ্যালান জয়েস সাহেব,

আমি অ্যালেক্স জ্যাকো, আমার বয়স দশ বছর (অনুগ্রহ করে আমাকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করবেন) এবং আমি একটি এয়ারলাইন চালু করতে চাই। আমি কিছু কাজ এর মধ্যেই শুরু করে দিয়েছি। যেমন আমার কোন ধরনের উড়োজাহাজ প্রয়োজন, আমার আরও জানতে হবে ফ্লাইট সংখ্যা, উড়োজাহাজে খাবারদাবার সরবরাহ এবং আরও অনেক বিষয়। আমিই এই এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেনে রাখুন আমার এয়ারলাইনসটির নাম হবে ওশেনিয়া এক্সপ্রেস। আমি এরই মধ্যে একজন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রধান, রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের প্রধান, উড়োজাহাজে প্রদেয় সেবা বিভাগের প্রধান এবং আইন বিভাগের প্রধান নিয়োগ দিয়েছি। আমার বন্ধু ওলফ উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। আমরা দুজন এই এয়ারলাইনসের যৌথ প্রতিষ্ঠাতা।

আমি আপনাকে লিখছি কারণ আমি তিনটি জিনিস জানতে চাই (আমি আমার এয়ারলাইনস নিয়ে কাজ করতে চাই, এখন যেহেতু স্কুল ছুটি, এখন আমার কাজ করার অনেক সময় কিন্তু আমি কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।) : প্রথমত এখন আমি কী করতে পারি, এ সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেন? যেহেতু আপনি কান্টাসের সিইও, সে জন্যই আপনাকে জিজ্ঞেস করছি।

দুই নম্বর : এয়ারলাইনস চালু করা নিয়ে আমার জন্য আপনার কি কোনো টিপস আছে? আপনি যা বলবেন আমি তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকব।

তিন নম্বর : সিডনি কিংবা মেলবোর্ন থেকে লন্ডন ফ্লাইটের জন্য এয়ারবাস ৩৫০-এর কথা ভাবছি। যেহেতু ২৫ ঘণ্টার ফ্লাইটে ঘুমের কথা চিন্তা করে আমরা অনেক সমস্যায় আছি। আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

শিগগিরই আপনার কাছ থেকে শোনার প্রত্যাশায়

image

আপনার একান্ত

অ্যালেক্স জ্যাকো

সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ওশিয়ানা এক্সপ্রেস।

ওশেনিয়া এক্সপ্রেসের প্রধান নির্বাহী কর্তার হাতে লেখা চিঠি পাওয়ার পর (বাংলাদেশি সংস্কৃতি : কই না তো, এমন কোনো চিঠি পাইনি কিংবা আরে ধ্যাৎ রাখো, পোলাপানের কা-!) কান্টাসের সিইও এবং এমডি অ্যালান জয়েস ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ চিঠির জবাব পাঠালেন। তার পুরো চিঠিটির অনুবাদ উপস্থাপন করছি। তার আগে এই কথাটি বলা প্রাসঙ্গিক হবে যে, ২০১৯ সালের এয়ারলাইনস নিরাপত্তা রেটিংস-এ পৃথিবীতে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কান্টাস।

প্রিয় জ্যাকো সাহেব

আপনার নতুন এয়ারলাইনস সম্পর্কে আমাকে জানানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। বাজারে একটি নতুন এয়ারলাইনস আসছে এ রকম একটি গুজব আমি শুনেছিলাম, আপনি যে সময় বের করে আমাকে লিখছেন আমি তার প্রশংসা করি। এবার আগে বলা দরকার, আমার একজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরামর্শ দেওয়াতে আমার আগ্রহ থাকার কথা নয়। আপনার নবনিযুক্ত আইন বিভাগের প্রধানের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, শুনুন এ ব্যাপারে তিনি কী বলেন। তবে আমি আপনার বিষয়টিকে ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচনা করব কারণ এক সময় আমিও অনেক ছোট ছিলাম, আমিও ফ্লাইট এবং এর সকল সম্ভাবনা নিয়ে কৌতূহলী ছিলাম।

নতুন চালু করতে যাওয়া কোনো এয়ারলাইনসের জন্য আমার এক নম্বর টিপস হচ্ছে নিরাপত্তা হতে সবার আগে এবং কেন্দ্রে বিবেচ্য। আজ আপনার যাত্রীদের ভ্রমণ আরামদায়ক এবং ব্যয় তাদের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখার জন্য যা যা করা দরকার আপনি সবই করবেন। প্রায় একশ বছর ধরে এটাই কান্টাসের পদ্ধতিÑ কান্টাস এভাবেই আমাদের জন্য কাজ করে আসছে। আপনি ২১ ঘণ্টার ফ্লাইটে ঘুমের সমস্যা নিয়ে চিন্তিত। আমাদেরও সমস্যার মোকাবিলা করতে হচ্ছে, আমরা প্রজেক্টে সানরাইজ শুরু করতে যাচ্ছি (আমাদের পরিকল্পনা অস্ট্রেলিয়া পূর্ব উপকূল থেকে লন্ডন পর্যন্ত টানা অবিরাম ফ্লাইট চালু করা)।

ঘুমে সহায়তা করার জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের কেবিন ডিজাইনের কথা বিবেচনা করছি যাতে যাত্রীরা গা-টানা দেওয়ার মতো জায়গা পান এবং ব্যায়াম করতে পারেন। আমরা চাই ভ্রমণ আরামদায়ক করার জন্য যত ধরনের ভাবনা আপনার মনে আসবে, তা বিবেচনা করবেন। এ কারণেই আমি আপনাকে প্রজেক্ট সানরাইজ-এর বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইÑ বৈঠক হবে অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম এয়ারলাইনের সিইও এবং নবীনতম এয়ারলাইনের সিইও- আমার এবং আপনার মধ্যে। এই বৈঠকে এয়ারলাইন চালানোর ব্যাপারটা কেমন এ নিয়ে আপনাকে আমাদের অপারেশন সেন্টার সফর করার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি (এখান থেকে আপনি পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন কান্টাসের যে কোনো ফ্লাইটের ওপর চোখ রাখতে পারবেন।)

আপনার চিঠির জন্য আপনাকে আমার ধন্যবাদ। আমাদের বৈঠকের সময় নির্ধারণ করে শিগগিরই আপনার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব।

আপনার একান্ত

অ্যালান জয়েস

কান্টাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

এই হচ্ছে অস্ট্রেলীয় সংস্কৃতি।

অ্যালেক্স জ্যাকোর জীবনের লক্ষ্যের মধ্যে পিতামাতার মুখ উজ্জ্বল করা, দেশের গৌরব বৃদ্ধি করা, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মতো বাগাড়ম্বর নেই। অ্যালেক্স জ্যাকো রচনা বই পড়ে জীবনের লক্ষ্য ঠিক জরুরি। রচনা বইয়ে মুদ্রিত ‘আমার জীবনের লক্ষ্য’ লেখাটির সঙ্গে আমাদের বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। সুতরাং যত শিগগির সম্ভব আমাদের শিশুদের বইয়ে লেখা ‘জীবনের লক্ষ্য’ থেকে মুক্ত করতে জীবনের লক্ষ্য রচনা পড়া নিরুৎসাহিত করতে হবে। তাদের লিখতে দিতে হবে তাদের নিজেদের রচনা।

দুই.

আমি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলাম (২০০৭-এর জুলাই থেকে বিমান লিমিটেড কোম্পানি, তার আগে করপোরেশন); আমি বেসরকারি কর্মজীবনে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ নামক বেসরকারি বিমান সংস্থারও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলাম। পেশাগতভাবে আমি মোটেও পেশাদার এয়ারলাইনস-কর্মী ছিলাম না, সুতরাং সীমাবদ্ধতা তো আমার ছিলই।

অ্যালেক্স জ্যাকো এবং অ্যালান জয়েসের কাহিনী পড়ে দেশীয় একটি কাহিনী আমারও জানাতে ইচ্ছে করছে। আমাকে কেউ এয়ারলাইন খোলার চিঠি পাঠাননি, সরাসরি আলোচনা করতে এসেছেন কেউ কেউ। ধনী ব্যবসায়ী পরিবারের তরুণ সুদর্শন একটি ছেলেকে আমার কাছে পাঠানোর আগেই তার বাবা আমাকে ফোনে জানালেন, ‘ছেলের মাথায় এয়ারলাইনের ভূত’ চেপেছে। দয়া করে তার মাথা থেকে ভূতটা নামিয়ে দেবেন।

বাংলাদেশ বিমানের আরও একটি প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারলাইন বাজারে আসবে এটা মাথায় রেখেই এবং ভূত নামাতে তার বাবার অনুরোধটা মাথা থেকে নামিয়ে খোলামনে তার সঙ্গে আলাপ করতে বসলাম।

তরুণ প্রথমেই আমাকে আশ^স্ত করলেন, তিনি বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে লড়তে যাবেন না। ইকুইপমেন্টের অভাবে বাংলাদেশ বিমান যেসব গন্তব্যে যেতে পারছে না তার এয়ারলাইন (তিনি কোনো নাম বলেননি, ধরা যাক কর্ণফুলী এয়ার) আপাতত সেখানেই যাবে। বেসামরিক বিমান পরিবহনের ভাষার সঙ্গে যাদের পরিচয় আছে তারা জানেন ইকুইপমেন্ট মানে গোটা উড়োজাহাজ। সেই তরুণ এ ধরনের অনেক শব্দের সঙ্গে সঙ্গে পরিচিত।

বাংলাদেশ বিমানের তখন উড়োজাহাজের সত্যিই অভাব। গড়পড়তা সাড়ে সাতাশ বছর বয়সী চারটি ডিডি ১০, ২টি এয়ারবাস ৩১০ (একটি ইজারা নেওয়া), ইজারাতে আনা একটি বোয়িং ৭৪৪ আর দুটি ফোকার ২৮, এই হচ্ছে বিমানের বহর। তখন যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ হিসেবে ১০টির বেশি ডিসি-১০ পৃথিবীর আকাশে থানার কথা নয়, বাকিগুলোর একাংশ কার্গো উড়োজাহাজ রূপান্তরিত।

সরকারের ব্যক্তি খাত উৎসাহ দেওয়ার তাত্ত্বিক ঘোষণার প্রশংসা করেই বললাম, এ পর্যন্ত যে কটা প্রাইভেট এয়ারলাইন ডানা মেলেছিল দুটি ছাড়া (জিএমজি এবং ইউনাইটেড) বাকি সব তলিয়ে গেছে। এই দুটিও ভালো অবস্থায় আছে কি নেই, আপনি গবেষণা করেই বের করুন। অন্তত একটি ধারণা দিতে পারি ভুল ইকুইপমেন্ট  (বোয়িং ৭৪৭) এনে বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতায় নেমে জিএমজি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নতুন এয়ারলাইন্সের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বিশাল অঙ্কের মূলধন, তখন পর্যন্ত আমরা বেসামরিক পরিবহনে এমন কোনো সাফল্য দেখাতে পারিনি  যে ব্যাংক এককভাবে কিংবা সিন্ডিকেট করে আপনাকে ঋণ দিতে এগিয়ে আসবে।

এভিয়েশন কঠিন কোনো ব্যবসা নয় কিন্তু এটা যে গার্মেন্টস ব্যবসা নয়, এটা সবার আগে মাথায় ঢোকাতে হবে।

বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম ধার্য হতো অযৌক্তিকভাবে, বিশ^বাজার দরের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তরুণকে বললাম, আমরা আপনাকে বলব ওয়ার্ল্ড স্ট্যান্ডার্ড এয়ারলাইন করুন (তরুণের তাই প্রত্যাশা) কিন্তু তাকে জেট ফুয়েল কিনতে বাধ্য করব বিশ্ববাজারের চেয়ে অন্তত বেশি চড়া দামে। বলা আবশ্যক উড়োজাহাজের বয়স এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে জেট ফুয়েলের পেছনে ব্যয় মোট ব্যয়ের কুড়ি থেকে পঁয়ত্রিশ ভাগ লেগে যাবে। শুধুমাত্র এই খাতে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ারলাইনের কাছে যে মার খাবেন তা দীর্ঘমেয়াদে অসহ্য হয়ে উঠবে। তরুণকে এটাও বোঝালাম, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ ভিন্ন এয়ারলাইনের বিনে পয়সার টিকিট আর পাঁচতারা হোটেলে দুই রাত মুফতে থাকার সুযোগ নিয়ে আপনার প্রার্থিত রুটে যাত্রী পরিবহন ও চলাচলের অধিকার দেবেন বিদেশি একটি এয়ারলাইনকে যার সঙ্গে আপনি কুলিয়ে উঠতে পারতেন না। এয়ারলাইন চালু করা এবং চালু রাখার জন্য নেতাকে নেই এমন বহু বিষয়ে আপনাকে বাড়তি খাতির করে টিকে থাকতে হবে। সুনির্দিষ্টভাবে আরও কিছু বিষয় আমার অভিজ্ঞতার আলোকেই তুলে ধরেছি যা উপস্থাপন করা বিব্রতকর হবে। তরুণ মলিন এক সালাম দিয়ে প্রস্থান করে, আমি ভাবলাম বড় অঙ্কের টাকা মার খাওয়া থেকে তো তাকে বাঁচিয়েছি। কিন্তু অ্যালান জয়েস ও অ্যালেক্স জ্যাকোর চিঠি পড়ার পর নতুন করে নিজেকে প্রশ্ন করলাম : আমি কি ভুল করেছি?

অবশ্য সে সময় কান্টাসের এমডি ও সিইও ছিলেন জিওফ ভিক্সন, তিনিও রক্ষণশীল ঘরানার মানুষ। তিনি এই তরুণকে কী পরামর্শ দিতেন জানি না।

আমি যখন তরুণকে আভাসে-ইঙ্গিতে এভিয়েশন মার্কেটের বিকৃত চেহারাটা দেখাতে চেষ্টা করছি, তখন বেসামরিক পরিবহন খাতে বৈশ্বিক ক্ষতি প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার, অপরিশোধিত তেলের ব্যারেল শত ডলার ছাড়িয়ে গেছে, দাম কমার লক্ষণ নেই। অবশ্য এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। এ বছর লাভ হবে ৩৫ বিলিয়ন ডলার। প্রতিকূলতা কাটিয়ে সেই তরুণ যদি এয়ারলাইন দাঁড় করাতে পারত এবং টিকে থাকত, বৈশ্বিক লাভের ছিটেফোঁটাও কি আদায় করতে পারত না? এয়ারলাইন করতে আমার কাছে আর যারাই এসেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল মৌসুমি ব্যবসা হজ ফ্লাইট করবেন, কিংবা নভেম্বর ডিসেম্বরে লন্ডন-সিলেট ফ্লাইট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত