রাস্তায় এক নারীর পার্স টান মেরে নিয়ে যায় মোটরসাইকেলে চড়া ছিনতাইকারী। ছিনতাই করতে গিয়ে ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায়ও ফেলে দেয় তারা। এ অভিযোগে শনিবার দিল্লির জনকপুরি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ছিনতাইকারী ও তার সহযোগীকে। তবে অবাক করা ব্যাপার হচ্ছে এ ছিনতাইকারী হচ্ছে একজন নারী। পুরুষের ছদ্মবেশ নিয়ে সে রাস্তায় ছিনতাই করে বেড়াতো।
এনডিটিভি জানায়, পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য ওই তরুণী পুরুষের মতো পোশাক পড়ে রাস্তায় ছিনতাই করত। রমনজিৎ কৌর নামে এ নারী নাংলোই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত দুজনেই সম্ভবত বান্টি বাবলি গ্যাংয়েরই সদস্য। অভিযুক্তদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত পার্সটি উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে মোটরসাইকেলটিও।
দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (পশ্চিম) মনিকা ভরদ্বাজ বলেন, ৮ মার্চ ৫৩ বছর বয়সী এক নারী আন্তর্জাতিক নারী দিবসের একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে জনকপুরি গিয়েছিলেন। সেখানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তিনি ফোনে কথা বলছিলেন।
এমন সময় বাইকে চেপে দুই ব্যক্তি তার পার্সটিতে টান মারে। ওই মহিলাটি পার্সটি খুব জোরে চেপে ধরে থাকায় একবারের চেষ্টায় ছিনতাই করতে পারেনি তারা। তখন ছিনতাইকারীরা ওই নারীকে মাটিতে ফেলে টেনেহিঁচড়ে সেটি ছিনতাই করে নিয়ে পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা যায় বাইক আরোহীর চেহারার মধ্যে একটা মেয়েলি ভাব রয়েছে। এরপরে ছিনতাইয়ে অভিযুক্ত থাকা এমন নারীদের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। পরবর্তীতে ফাঁদ পেতে সহযোগী সহ রমনজিৎ গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তেজেন্দর সিং নামে একজনকে বিয়ে করেছিল রমনজিৎ। সে আপাতত খুনের অভিযোগে জেলে বন্দী রয়েছে।
তারপরেই রমনজিতের আলাপ হয় জগজিৎ সিং নামে একজনের সঙ্গে। দুজনে মিলে বের করেন ছিনতাইয়ের নতুন কৌশল। পুরুষের ছদ্মবেশ নিয়ে বাইকে করে ছিনতাই করে বেড়াত রমনজিৎ। ২০১৪ সালে প্রথম রমনজিৎকে একবার গ্রেফতার করে পুলিশ। জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর সে আবার ছিনতাইয়ের পথ বেছে নেয়।
