মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পর বিশ্বজুড়ে সবার মন জয় করে নেয়া নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন এক যুবক।
জাসিন্ডা আরডার্ন ও ওই যুবকের কথোপকথনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্রাইস্টচার্চে হামলায় নিহত পরিবারকে সমবেদনা জানাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় এক মুসলিম যুবক তাকে বলেন, গত তিনদিন যাবৎ আমি লাগাতার কাঁদছি। আপনি একজন অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। বিশ্বের অন্যান্য প্রধানমন্ত্রীরা আপনার মতো হবে বলে আমি আশা করি।
এ সময় কিউই প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ওই যুবক বলেন, আমার বিশ্বাস আপনি একদিন ইসলাম গ্রহণ করবেন।
এ সময় জাসিন্দা আরডার্ন মুচকি হেসে বলেন, ইসলাম মানবতার শিক্ষা দেয়, 'আমার মনে হয় এটি আমার মধ্যে আছে'।
গত ১৫ মার্চ জুমার নামাজের সময় ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে ব্রেনটন ট্যারেন্ট নামের এক শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টানের গুলিতে কয়েকজন বাংলাদেশিসহ কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হন। আহত হন আরও ৪৬ জন যাদের ১২ জনকে আশঙ্কাজনক।
এ ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে যায় সেখানে টেস্ট ম্যাচ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। হামলার এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির অস্ত্র আইন সংশোধনী আনেন প্রধানমন্ত্রী আরডার্ন।
দোকান থেকে কেনা দুটি আধা-স্বয়ংক্রিয় মেশিনগানসহ পাঁচটি অস্ত্র দিয়েই মসজিদে হামলা চালিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় ট্যারেন্ট। ফলে অস্ত্র আইনের সংশোধনীর দাবি উঠে দেশটিতে। দুদিন পরে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকে সরকার এ বিষয়ে একমত হন।
এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার আরডার্ন নাগরিকের হাতে সামরিক ঘরানার সব ধরনের অস্ত্র নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ান আরডার্ন। সেই সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাতি ধর্ম সম্প্রদায় নির্বিশেষে ঐক্যের ডাক দেন। তার সরকারের দ্রুত প্রচেষ্টায় আক্রান্ত মসজিদ মেরামত করে পুনরায় নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
গত শুক্রবার জুমার দিনে ক্রাইস্টচার্চের হেগলি পার্কে মুসলিম ছাড়াও জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। মুসলিমদের প্রতি সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানাতে হেগলি পার্কে এসেছিলেন কিউই প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। তিনি মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কুশল বিনিময় করেন।
নিহত মুসলিম নারীদের সম্মানে এদিন মাথায় স্কার্ফ পরেছেন আরডার্নসহ অমুসলিম হাজারো নারী
