চবিতে ‘ছাত্রলীগের প্যাড’ ব্যবহার করছে বিলুপ্ত কমিটির নেতারা

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৯, ১১:৩২ পিএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়ে উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপ, উপ-গ্রুপ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘নজর কাড়তে’ নানা কর্মসূচিও পালন করছে তারা। কমিটি বিলুপ্ত থাকার পরেও কেউ কেউ ব্যবহার করছে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্যাড।

সোমবার সকালে ক্যাম্পাসে জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করণ, আবাসন সমস্যা নিরসনসহ ৯ দফা দাবিতে ‘ছাত্রলীগের প্যাডে ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে’ উপাচার্যকে স্মারকলিপি প্রদান করে ছাত্রলীগের একাংশ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য সাবরিনা চৌধুরী এবং চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মনসুর আলমসহ আটজন ছাত্রলীগ নেতা এত স্বাক্ষর করেন।

স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারীদের অন্যরা হলেন, চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল মালেক, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তোরাব পরশ, সাবেক উপ গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইকবাল হোসেইন টিপু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ অভি, সাবেক সদস্য সাইদুল ইসলাম সাঈদ, সাবেক সদস্য শামশুদ্দোহা সম্রাটসহ  সাইকুল ইসলাম এবং রাজ মুন্সি নামের দুই ছাত্রলীগ কর্মীও রয়েছে । স্বাক্ষরকারীরা চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাসির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক চবি ছাত্রলীগের এক সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রলীগের প্যাড ব্যবহার করতে হলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করে অনুমতি নিতে হয়। অন্যথায় কেউই ছাত্রলীগের প্যাড ব্যবহার করতে পারবে না।

জানা যায়, গত ২০১৫ সালের ২০ জুলাই আলমগীর টিপুকে সভাপতি ও এইচ এম ফজলে রাব্বী সুজনকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্র থেকে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১৬ সালে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে রেখে ২৬১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে বারবার নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় কমিটি গঠনের পর দুইবার স্থগিতাদেশ দেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। গত ২০১৭ সালের ৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ অনির্দিষ্টকালের জন্য চবি ছাত্রলীগের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করে। ছয় মাস স্থগিত থাকার পর ওই বছর ১৩ নভেম্বর নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য জীবনবৃত্তান্ত জমা নেয় ‘সোহাগ-জাকির’ প্যানেলের কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে জীবনবৃত্তান্ত জমা নেওয়ার প্রায় দেড় বছর অতিক্রম হওয়ার পরেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করেনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য নেত্রী সাবরিনা চৌধুরীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ছাত্রলীগের প্যাড ব্যবহার করে স্মারকলিপি দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে জানিয়েছি।

তবে ভিন্ন কথা বললেন স্মারকলিপিতে আরেক স্বাক্ষরকারী ও চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি মুনসুর আলম। এ বিষয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রলীগের প্যাড ব্যবহার করার বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে জানানো হয়নি। তবে আমরা যেহেতু ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি সেহেতু ছাত্রলীগের প্যাড ব্যবহার করতেই পারি।

জানতে চাইলে আরেক স্বাক্ষরকারী ও চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল মালেক এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এসব বিষয়ে কথা বলতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার ফোন ও মেসেজ দিয়েও তাদের সাথে যোগাযোগ করা যায় যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত