জানালায় ঝুলছিল শিশু বৈশাখীর লাশ, উত্তরায় বাড়িতে হামলা-বিক্ষোভ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৯, ০৮:৩০ পিএম

রাজধানী ঢাকার উত্তরায় এক শিশু গৃহকর্মীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় লোকজন।

উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর ভবনের ছয়তলার বাসা থেকে বৈশাখী নামে ১২ বছরের ওই শিশু গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গৃহকর্তা ও পুলিশ বলছে, বৈশাখী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে বৈশাখীর স্বজনের অভিযোগ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। বৈশাখী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রিফাত ফেরদৌসের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার কামরুজ্জামান জানান, রিফাত পুলিশকে খবর দিলে বাসায় গিয়ে একটি কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে জানালায় ঝুলন্ত অবস্থায় বৈশাখীর লাশ পাওয়া যায়।

রিফাত ও তার স্ত্রীর বরাত দিয়ে তিনি বলেন, “ছুটির দিন হওয়ায় তারা দেরি করে ঘুম থেকে উঠে দেখেন পাশের কক্ষের দরজা ভেতর থেকে লাগানো। গৃহপরিচারিকা বৈশাখী ভেতরে। অনেক ডাকাডাকির পরেও দরজা না খোলায় পুলিশকে খবর দেন গৃহকর্তা।”

বৈশাখীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়রা ওই বাড়িতে গিয়ে বৈশাখীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে। তাদের সঙ্গে এলাকার লোকজনও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন বাসার সামনে বিভিন্ন পরিত্যক্ত জিনিসপত্র, একটি সাইকেল ও কিছু আসবাবপত্রে আগুন দেয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আগুন নেভাতে গেলে তারা বাধা দেয়। বাড়িটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিত শান্ত করে।

শিশুটির আত্মীয় হাসান জানান, শিশুটির বাবার নাম আজিবুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। দুই মাস আগে বৈশাখী কাজ শুরু করে রিফাতের বাসায়। কয়েক দিন আগে বৈশাখীর দাদি মারা গেলে সে গ্রামের বাড়ি নওগাঁ যায়। সোমবার ঢাকা ফিরে আসে।

তিনি বলেন, শিশুটির মা তাকে রিফাতের বাসায় পৌঁছে দেন। সুস্থ মেয়ে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার পর দিনই গলায় ফাঁস দেবে এমনটা কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। বিক্ষুব্ধ লোকজন ওই বাড়ির দিকে ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। এতে বাড়ির জানালার কাঁচ ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঘটনাস্থল থেকে উত্তরা থানার উপরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১৮ নম্বর সড়কের ওই বাড়িতে রিফাত, তার স্ত্রী ও এক সন্তান থাকতেন। শিশুটির লাশ ঘটনাস্থল থেকে থানায় আনা হয়েছে। এঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়েরের পর লাশ ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ পেলে ওই অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গণ্য হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত