আবরার হত্যা: মালিকের নির্দেশেই গাড়ি চালাচ্ছিল কন্ডাক্টর ইয়াছিন

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৯, ০৭:৫৯ পিএম

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এর ছাত্র আবরার হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত সুপ্রভাত বাসের কন্ডাক্টর ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। বাসমালিকের নির্দেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স, পারমিট কোন কিছু না থাকার পরও সে বাস চালিয়ে পালানোর সময় আবরারকে চাপা দেয় বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে। বাসের মালিক ননী গোপাল গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।

তার দেওয়া স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ ভোর পৌনে ৫টায় ভিক্টোরিয়া পার্ক হতে ছেড়ে আসা সুপ্রভাত পরিবহনটির ড্রাইভার সিরাজুল ইসলাম শাহাজাদপুরের বাঁশতলা অতিক্রম করার সময় মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সিনথীয়া সুলতানা মুক্তাকে চাপা দিয়ে গুরুতর জখম করে। ওই ঘটনায় সুপ্রভাত পরিবহনের যাত্রীরা ড্রাইভার সিরাজুলকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশে হস্তান্তর করে। এ সময় উপস্থিত জনতা বাসের ক্ষতি করতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে বাসের মালিক ননী গোপালের নির্দেশে কন্ডাক্টরর ইয়াছিন বাসটি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় নর্দ্দায় বিইউপি’র ছাত্র আবরারকে বাস চাপা দিয়ে হত্যা করে।

বুধবার বেলা ১২টায় মিন্টুরোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার সময় সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি চালাচ্ছিলেন ওই বাসের কন্ডাক্টর মো. ইয়াছিন আরাফাত ও হেলপার হিসেবে ছিলেন মো. ইব্রাহিম। তাদের দুজনকেই গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

তিনি জানান, মঙ্গলবার চাঁদপুর থেকে ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার সকালে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।  দুর্ঘটনার পর বাসের প্রকৃত ড্রাইভার সিরাজুল ইসলামকে আটক করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে বাস চালক সিরাজ বাস চালিয়ে দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করায় পুলিশ ধারণা করেছিল সেই আবরারকে হত্যা করেছে। এজন্য পুলিশ তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে আনে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডিবির কাছে ন্যস্ত করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ রিমান্ডে থাকা বাস চালক সিরাজের স্বীকারোক্তিতে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটন করে।

আবদুল বাতেন বলেন, কোন ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স, পারমিট না থাকা সত্ত্বেও বাস মালিক ননী গোপালের নির্দেশনায় টিকিট চেকার কন্ডাক্টর ইয়াছিন বেপরোয়া গতিতে বাসটি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। আবরারকে হত্যা করার পরে সে বাসটিকে ফেলে দিয়ে আত্মগোপন করে যায়। ইয়াসিনকে আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার পর আমরা জড়িত ব্যক্তিদের নামে এক মাসের কম সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দেব।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মার্চ ২০১৯ মঙ্গলবার ঢাকা সুপ্রভাত পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫ বাসটি বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর শিক্ষার্থী আবরার আহমেদকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ওই ঘটনায় গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা হয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত