লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সাজুর ওপর হামলা হয়েছে। এলাকায় সাবেক শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগ কর্মী সদরুল আমিন রিপন ও তার ছোট ভাই খোকন হামলা চালিয়েছে বলে আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ছবি তুলতে গেলে এ হামলা হয়। বুধবার এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন জেলার সাংবাদিকরা।
আসাদুজ্জামান সাজু জানান, স্বাধীনতা দিবসের দিন (মঙ্গলবার) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুপক্ষের কর্মী-সমর্থকরা শোডাউন করে পৃথকভাবে হাতীবান্ধা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানায়। পরে সেখান থেকে ফেরার পথে বন্দর এলাকায় উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ছবি তুলতে গেলে উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে এলাকায় সাবেক শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত সদরুল আমিন রিপন ও তার ছোট ভাই খোকন হামলা করে তাকে জখম করে।
এ সময় তার ব্যবহারকৃত ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়া হয় বলেও জানান তিনি। পরে আহত তাকে প্রথমে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে তিনি বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে হাতীবান্ধা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই রাতেই মিতু নামের একজনকে আটক করলেও বাকিরা এখনো পলাতক রয়েছে।
এরপর বুধবার দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের সামনে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে দাঁড়িয়ে এ হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন সাংবাদিকরা। এতে সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়।
সমাবেশে বক্তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানান এবং হামলার ছবি দেখে অবিলম্বে চিহ্নিত আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
হাতীবান্ধা প্রেসক্লাব আহ্বায়ক স্বপন কুমার দের সভাপতিত্বে জেলার সিনিয়র সাংবাদিকসহ সাজুর মেয়ে উম্মে সুরাইয়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। পরে সাংবাদিকদের একটি মৌন মিছিল উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
