চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার পরীক্ষা দিতে এসে বুধবার ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন মো. এমদাদুল হক। শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষার দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করে।
জানা গেছে, এমদাদুল হক ২০০৮-০৯ সেশনে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রাণীবিদ্যা বিভাগে। বিভাগের সর্বোচ্চ সিজিপিএ পেয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করেন। শিক্ষাজীবনের সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৫ এবং বাংলাদেশ জুলজিক্যাল সোসাইটি পদক ২০১৫ লাভ করেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক জার্নালে তার তিনটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়।
বুধবার পরীক্ষার সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত কয়েক দফা মারধরের পর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় তারা। তার বিরুদ্ধে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পায়নি পুলিশ।
এমদাদুল হক জানান, ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার।
ঘটনার বিষয়ে এমদাদুল হক জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে আসার পর প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র আনোয়ার হোসেন ও মোকসেদ আলি, আসিফ মাহমুদ শুভ, জাহিদুল হাসান, রফিকুল ইসলাম, আসির উদ্দিন, শরীফ উদ্দিন আমাকে বলে, আপনি আমাদের সঙ্গে কথা বলে আসেননি তাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। ছোট ভাইদের কিছু দাবিদাওয়া আছে সেটা মিটাতে হবে পরীক্ষা দিতে হলে। আমি দিতে অনীহা প্রকাশ করলে তারা আমাকে মারধর করতে থাকে এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে নিয়ে যায়। সেখান থেকে প্যাগোডায় নিয়ে গিয়ে মারধর করে। এ সময় মাথায় পিস্তল ধরে বলে এ কথা কাউকে বললে মেরে ফেলবে। পরে বেলা ১২টার দিকে পুলিশে দেয় আমাকে।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের কয়েকজন বলেন, তার বিষয়ে বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেছে যে তিনি শিবিরের রাজনীতিতে জড়িত। ২০১২ সালে ডবল মার্ডারের সময় শিবিরের হয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।
জানতে চাইলে চবি প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. গাজী সৈয়দ মোহাম্মদ আসমত দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার জানা মতে এমদাদ কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। আমরা কখনো এসব বিষয় শুনিনি। আর যদি সে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকত তাহলে কী প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পেত?
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর জানান, আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিভাবকের হাতে তুলে দিয়েছি।
এমদাদ আবার পরীক্ষা দিতে পারবে কি না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে. এম. নুর আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভাইবা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। বোর্ড একবারের জন্যই গঠিত হয়। একবার ভাইবা হওয়ার পর আর কারো ভাইবা নেওয়া সম্ভব নয়।
