গ্রুপের নাম নিয়ে ফেসবুকে বাজে মন্তব্য করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন।
রোববার দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে ২টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। বর্তমানেও ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিবাদমান ছাত্রলীগের পক্ষ দুটি হলো- ‘সিএফসি’ ও ‘বিজয়’। দুটি গ্রুপই শিক্ষা উপমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র তনয় কান্তি দাস, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের কাজল দাস এবং আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের। আহতরা সবাই ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ বিজয়ের অনুসারী। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, ফেসবুকে এক গ্রুপের নামে অন্য গ্রুপ বাজে মন্তব্য করায় দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরের পাশে বিজয় কর্মী তনয় কান্তি দাসকে মারধর করে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা। এঘটনায় বিজয় কর্মীরা একত্রিত হয়ে সিএফসি কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে আব্দুর রব হলে পাঠিয়ে দেয়। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। পরে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা বিজয় কর্মীদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বিজয় গ্রুপের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে এবং সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা শাহ আমানত হলের সামনে চলে আসে। এখানেও দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় বিজয় কর্মী কাজল দাস ও শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের আহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ রিপোর্ট লেখা (বিকেল সাড়ে তিনটা) পর্যন্ত বিজয় গ্রুপের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে এবং সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা শাহ আমানত হলের সামনে অবস্থান করছে।
এ বিষয়ে সিএফসি গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি রেজাউল হক রুবেল দেশ রূপান্তরকে বলেন, জুনিয়রদের মধ্যে কথাকাটাকাটি নিয়ে একটু ঝামেলা হয়েছে। আমরা সিনিয়ররা বসে সমাধান করার চেষ্টা করছি।
বিজয় গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মো. মাহফুজ রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্প্রতি যতগুলো ঘটনা হচ্ছে সিএফসি গ্রুপই সবগুলো করছে। তারা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য এগুলো করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তাদের সিনিয়রদের নিয়ে বসে আমরা আজকের ঘটনার মীমাংসা করব।
এ বিষয়ে চবি পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ আক্তারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জানতে চাইলে চবি প্রক্টর মোহামদ আলী আজগর চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় তারা দৌড়াদৌড়ি করছিল। পুলিশ যাওয়ার পর তারা শান্ত হয়ে গেছে।
