কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সোমবার।
দুপুরে বিএমএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে মাহবুবুল হক খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য নতুন চিকিৎসা বোর্ড গঠন করা হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের ওপর তার আস্থা আছে বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই।
চিকিৎসকরা দেশ রূপান্তরকে জানান, মঙ্গলবার থেকে তার চিকিৎসা শুরু হবে। সোমবার তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন যেসব রোগ ও স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন তা তুলে ধরে মাহবুবুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার হাতে ও পায়ের জয়েন্টে ব্যথা আছে। তার ডায়াবেটিকের মাত্রা কিছুটা বেশি। খাওয়ায় অরুচি আছে। তার ঘুমও কম হচ্ছে। তিনি নিজে হাঁটাচলা করতে পারেন না অন্যের সাপোর্ট নিয়ে তাকে হাঁটতে হয়। তার ডায়াবেটিক আগেই ছিল। এটি বেড়েছে। আজকে খাবার পর র্যানডম ১৪ এসেছে।
হাসপাতালের পরিচালক বলেন, তার চিকিৎসার জন্য নতুন মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। রোববার মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক জিলান মিয়া সরকারের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়। বোর্ডকে সহায়তার জন্য খালেদার দু’জন ব্যক্তিগত চিকিৎসকও রয়েছেন। তাকে ৬২১ নম্বর কেবিনে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৬২২ নম্বর কেবিনে তার ব্যক্তিগত লোকজন আছে।
তিনি বলেন, সোমবার হাসপাতালে আনার পর খালেদা জিয়া মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের সামনে বসে কথা বলেছেন। মেডিকেল বোর্ডের কাছ থেকে সুন্দরভাবে চিকিৎসাপত্র নিয়েছেন। বোর্ডের প্রতি ওনার আস্থা আছে। ‘তাকে দেখেছি, উনি হ্যাপি’।
বিদেশে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নেওয়ার দরকার আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক বলেন, আমরা এখনো এমন কিছু পাইনি যার জন্য তার বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন আছে। এখানেই সব চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
এর আগে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে বহনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়িবহর রওনা হয়। ১২টা ৩৭ মিনিটে তিনি হাসপাতাল পৌঁছান। রা তাকে একটি হুইল চেয়ারে বসিয়ে কেবিনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ৬২১ নম্বর কেবিনে তাকে রাখা হয়েছে।
এর আগে সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, কারাবন্দী খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে ভর্তি হতে রাজি হয়েছেন। তাকে যেকোনো সময় কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হতে পারে। এরই মধ্যে তার ব্যবহার্য জিনিস কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
