ভারতের অ্যান্টি স্যাটেলাইট (এএসএটি) মিসাইলের আঘাতে বিধ্বস্ত স্যাটেলাইটটির ধ্বংসাবশেষ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
গত ২৭ মার্চ এএসএটি মিসাইল দিয়ে লো-আর্থ অরবিটে (এলইও) থাকা একটি কাজে না লাগা স্যাটেলাইট ধ্বংস করে ভারত। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে ‘মিশন শক্তি’ নামে এই অপারেশন শেষ হয়। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ কথা জানান।
এএসএটি মিসাইল পরীক্ষায় ভারত চতুর্থ দেশ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন এ ধরনের মিসাইলের পরীক্ষা চালায় মহাকাশে।
কিন্তু এ পরীক্ষা চালিয়ে উল্টো চিন্তায় পড়ে গেছে ভারত। এ অভিযানে ধ্বংস হওয়া স্যাটেলাইটের টুকরোগুলো কক্ষপথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাও উপগ্রহের গতিবেগে। ফলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে এসব টুকরো।
বিবিসি জানায়, নাসার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এক বক্তব্যে নাসার চিফ জিম বাইডেনস্টাইন ভারতের এএসএটি মিসাইলের কঠোর সমালোচনা করেন।
জিম বাইডেনস্টাইন বলেন, এএসএটি মিসাইল পরীক্ষা চালানোর ১০ দিন পার হওয়ার আগেই এটি আইএসএসের জন্য ৪৪% ঝুঁকি বৃদ্ধি করেছে।
তিনি বলেন, কক্ষপথে ৪০০ টুকরা শনাক্ত করেছে নাসা, যার ৬০টিই ১০ সেন্টিমিটার থেকে বেশি ব্যাসরেখায় ঘুরছে। এর ২৪টি টুকরো আইএসএসের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।
পরীক্ষা চালানোর পরপরই ভারতকে সতর্ক করে নাসা জানায়, মহাকাশ বাহুবল জাহির করার জায়গা নয়। সেটা করতে গিয়ে অন্য দেশের বিপদ ডেকে আনাটাও ঠিক নয়।
একইভাবে লাইভ স্যাটেলাইট ধ্বংস করায় ভারতকে কড়া বার্তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ভারতকে সতর্ক করে দিয়ে বলে, অযথা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে মহাকাশের সর্বনাশ ডেকে আনা ঠিক নয়।
