নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওরের মোহনগঞ্জ-গাগলাজুর জিসি রাস্তাটি তেতুলিয়া-গাগলাজুর পর্যন্ত প্রায় ৭ কি.মি. (ডুবো) রাস্তা ভাঙতে ভাঙতে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বড় বড় গর্তে ক্রমশ মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে রাস্তাটি।
উপজেলার মোহনগঞ্জ-গাগলাজুর সড়কের জিসি উন্নয়ন প্রকল্পের রাস্তাটি গত বছর শুরু হয়ে একমাস আগে শেষ হয় সংস্কারকাজ। মোহনগঞ্জ-গাগলাজুর ১৬ কি.মি. রাস্তাটি প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি শেষ হলেও কাজের মানের ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এরই মাঝে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে তেতুলিয়া-গাগলাজুর পর্যন্ত প্রায় ৭ কি.মি. (ডুবো) রাস্তাটির বিভিন্ন অংশের স্থানে স্থানে ভেঙে যাওয়ায় আসন্ন বোরো মৌসুমে হাওরের একমাত্র উৎপাদিত ফসল ধান যথাসময়ে ঘরে তোলা বা বাজারে নিয়ে যেতে পারবে কিনা এ নিয়ে চাষিরা চিন্তিত।
সরকারের বিপুল টাকা ব্যয়ে রাস্তাটি নির্মিত হলেও কাজে আসছে না স্থানীয়দের। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
এ রাস্তা দিয়ে বড়পাইকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়াত করে। তেতুলিয়া গ্রামে অবস্থিত ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে সেবা নিতে আসেন গাগলাজুর ইউপিসহ অন্যান্য গ্রামের অসংখ্য পুরুষ, নারী ও শিশু।
সড়কের এ অবস্থার কারণে ক্ষুব্ধ এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও। বার বার নিম্নমানের কাজের ব্যাপারে বাধা দিয়ে কোনো প্রতিকার হয়নি বলে জানিয়েছেন গাগলাজুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিব।
কিন্তু সংস্কার হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় হাওরবাসীর দুর্ভোগ এখন চরমে চেয়ারম্যানসহ ভুক্তভোগী চলাচলকারী ও এলাকাবাসী সকলের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির অনেক স্থানে আরসিসি ঢালাইয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঢালাই করা কংক্রিট থেকে বালু, পাথর ও রড বেরিয়ে পড়েছে। বর্তমানে চলাচলকারী ছোট ছোট যানবাহনও গর্তে আটকে যাচ্ছে ও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছেন চলাচলকারীরা।
মোহনগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে গত ১১ মার্চ ৯৮ নম্বর স্মারকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে চিঠি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত লোডে যানবাহন চলাচলকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গ্রামীণ রাস্তাগুলো যে লোড দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণের লোড নিয়ে গাড়ি চলাচল করছে। যে কারণে রাস্তাটি ভেঙে পড়েছে। কাজের গুণগত মানের কোনো ত্রুটি ছিল না।
রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে এখনো চূড়ান্ত বিল প্রদান করা হয়নি। ঠিকাদার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি আপতত চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা নিচ্ছি। পরবর্তীতে ডিজাইন ও ওখানকার মাটির কন্ডিশন, কি ধরনের যানবাহন চলাচল করে এ বিষয়গুলো সমন্বয় করে নীতি নির্ধারণী যারা আছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
