মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে যৌনপল্লিতে বিক্রির চেষ্টার সময় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থেকে এক কিশোরীকে (১৬) উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ দৌলতদিয়া যৌনপল্লির প্রধান ফটক থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় মিজানুর রহমান ওরফে জিয়ারুল ইসলাম (৩৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওই কিশোরীর বাড়ি হবিগঞ্জের সদর উপজেলায় হলেও থাকতেন ঢাকার সাভারে। জিয়ারুল রাজশাহীর বাঘা উপজেলার লক্ষীনগর গ্রামের তফিল উদ্দিন গারোয়ানের ছেলে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি এজাজ শফী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মোবাইল ফোনে ওই কিশোরীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন জিয়ারুল। জরুরি কথা আছে বলে সাভারের বাইপাইল বাজারে কিশোরীকে ডেকে নেন তিনি। নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আত্মীয়-স্বজনের সাথে বিয়ের আলোচনা করবেন জানিয়ে কিশোরীকে দৌলতদিয়ায় নিয়ে আসেন জিয়ারুল। পরে রাত ১০টার দিকে যৌনপল্লির প্রধান ফটকের কাছে এনে কিশোরীকে বিক্রির চেষ্টা করেন তিনি।
স্থানীয় লোকজন বিষয়টি বুঝতে পেরে গোয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে। এসময় আটক করা হয় জিয়ারুলকে।’
উদ্ধার হওয়া কিশোরী গোয়ালন্দ ঘাট থানা হেফাজতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেড় মাস আগে অপরিচিত একটি মোবাইল নম্বর থেকে আসা কলের মাধ্যমে জিয়ারুলের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরই সূত্র ধরে আলাপ এবং পরে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে জিয়ারুল। সে আমার সাথে প্রেমের নামে প্রতারণা করেছে। সময়মতো পুলিশ উদ্ধার না করলে আমার জীবনটাই নষ্ট হয়ে যেতো।’
থানায় উপস্থিত কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে অল্পের জন্য বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে। জিয়ারুলের যেনো কঠিন শাস্তি হয় সেই ব্যবস্থা করা হোক।’
ওসি এজাজ শফী জানান, এ ঘটনায় মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাজবাড়ীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠানো হলে বিচারক জিয়ারুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
