ভিসির বিদায়ের শর্তে খুলছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ০১:৫০ এএম

উপাচার্যের বিদায়ের শর্তে ১১ দিনের অচলাবস্থা শেষে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

শনিবার সার্কিট হাউস সভাকক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভাগীয় প্রশাসনের উদ্যোগে ৪ ঘন্টার বৈঠকে সকল আবাসিক হল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রবিবার থেকে শুরু হবে একাডেমিক কার্যক্রম।

বৈঠক শেষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থানের কারণে উপাচার্য (ভিসি) ড. এসএম ইমামুল হককে ছুটিতে যাওয়ার পাশাপাশি তাকে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জানানো হবে।

আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি গণিত বিভাগের ছাত্র মহিউদ্দিন আহমেদ শিফাত বলেন, ‘জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। তবে উপাচার্যের পদত্যাগ কিংবা তাকে ছুটিতে পাঠানোর লিখিত প্রমাণ ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহার করা হবে না।’

গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে উপাচার্যের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধনের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৮ মার্চ থেকে কর্তৃপক্ষ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের হলত্যাগের নির্দেশ দিলে আন্দোলন আরও দানা বাঁধে। এর পর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন তারা।

গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক আন্দোলনে ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচী, প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলপনা আঁকা, রক্ত দিয়ে দেয়াল লিখন, মশাল মিছিল, মহাসড়ক অবরোধ এবং প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালিত হয়।

অচলাবস্থা নিরসনে গতকাল সার্কিট হাউসে শিক্ষার্থীদের ২৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন, সদর আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার রাম চন্দ্র দাস, পুলিশ কমিশনার মোশারফ হোসেন, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চ্যোরম্যানর অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুস, জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমানসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ সদস্যের শিক্ষক প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের তিন প্রতিনিধি।

বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী শিফাত সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে অনড় থাকেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাসহ তাকে (উপাচার্য) আর দায়িত্ব পালন না করতে দেওয়ার বিষয়ে একমত হন উপস্থিত সবাই।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সব দাবির সাথে না হলেও কিছু দাবির সাথে তারা একমত। শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, উপাচার্যকে ছুটিতে পাঠানো বা তাকে আর দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়কে অবহিত করবেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. হাসিনুর রহমান বলেন, সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে সমঝোতা বৈঠক শেষ হওয়ার এক ঘন্টা পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নেতা অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র জহিরুল ইসলাম ও রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, উপাচার্যকে ছুটিতে পাঠানো কিংবা তার পদত্যাগের লিখিত প্রমাণ হাতে পাওয়া ছাড়া শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করবে না। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্যাম্পাসও খুলতে দেবেন না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত