চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে শাখা ছাত্রলীগের একপক্ষ। এই অংশের ডাকা ছাত্র ধর্মঘটের মধ্যেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।
রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল।
ছাত্রলীগ কর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষিপ্তভাবে ভাঙচুর চালাচ্ছে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। তাদের নিবৃত্ত করতে পুলিশ এপিসি ও জলকামান ব্যবহার, লাঠিচার্জ এবং ৫০-৬০ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।
এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ দুই ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে।
এর আগে দেশীয় অস্ত্র মামলায় আটক ছয় ছাত্রলীগ কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলালকে প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ছাত্র ধর্মঘট পালন শুরু করলে অচল হয়ে পড়ে ক্যাম্পাস।
সকাল থেকে আন্দোলনকারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের প্রধান গেট তালাবদ্ধ করে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।
ধর্মঘট সফল করতে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সকল বাসের চাকার হাওয়া ছেড়ে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
এছাড়া রোববার সকালে চট্টগ্রাম বটতলী স্টেশনে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেনের হুইসপাইপ কেটে দিয়েছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢোকার সকল প্রবেশপথ, সকল দোকানপাটও বন্ধ করে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, ফেসবুকে এক গ্রুপের নাম নিয়ে অন্য গ্রুপ বাজে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র গত ৩১ মার্চ (রোববার) থেকে তিন দিন দফায় দফায় সংঘর্ষ ও দেশীয় অস্ত্রেও মহড়া দেয় শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ সিএফসি ও বিজয় গ্রুপের কর্মীরা।
এতে তিন দিনে ছাত্রলীগের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন এক গ্রুপের আহতের অনেককে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা করাতে দেয়নি অন্য গ্রুপ।
এসব ঘটনায় ১ মার্চ দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাঁচটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালিয়ে দু’টি পাইপগান ও ১২৮ রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রুপ দুটি ২ মার্চ (মঙ্গলবার) ফের সংঘর্ষে জড়ালে সংঘর্ষ চলাকালে ছয় ছাত্রলীগকর্মীকে আটক করা হয়। আটককৃতদের ৩ মার্চ দেশীয় অস্ত্র মামলায় কোর্টে চালান দেয় চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।
এদের মধ্যে চবি আইন বিভাগের ছাত্র খালেদ মাসুদ, একই বিভাগের শাকিল হাসান, সমাজতত্ত্ব বিভাগের সিফাত উল্লাহ সরকার শাখা ছাত্রলীগের সিএফসি গ্রুপের কর্মী।
অন্যদিকে ইংরেজি বিভাগের বেলাল হাসান, ইতিহাস বিভাগের অমিত রয় এবং উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের ইয়াসিন আরাফাত শাখা ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের কর্মী।
এছাড়া এরা সবাই শিক্ষা উপমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের নামে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাদের (ছাত্রলীগের) আন্দোলন যৌক্তিক হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
