স্কুলের ছাদ ধসে ছাত্রীর মৃত্যু: কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:২০ পিএম

বরগুনার তালতলীর পি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের পলেস্তারা ধসে মানসুরা নামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী ও আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনায় তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। এদিকে এই ঘটনায় নিহত মানসুরার পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

ওই ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রোববার বিকেলে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, বরগুনার জেলা প্রশাসক, একই জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, তালতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে আদেশে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম. মাইনুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন রিটকারী আইনজীবী মো. ইশতিয়াক আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

এর আগে দুপুরে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী ইশতিয়াক আহমেদ। তিনি জানান, রুলে বরগুনার তালতলীতে পি কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন  আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং হতাহত শিক্ষার্থীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

গত শনিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে বরগুনার তালতলী উপজেলার ৫নং ছোটবগি পি  কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের গ্রেড বিম’র পলেস্তারা ধসে পড়ে মানসুরা (৮)  নামে তৃতীয় এক ছাত্রী নিহত হয়। এ ঘটনায় একই শ্রেণির আরও পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ২০০২ সালে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী  বিভাগ স্কুল ভবনটি নির্মাণ করে। ভবন নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সেতু এন্টারপ্রাইজ। স্কুল ভবন নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।

এদিকে এই ঘটনায় নিহত মানসুরার পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই ঘটনায়  আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও তাদের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে। জনস্বার্থে রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসান তারেক পলাশ ও মানবাধিকার বিষয়ক আইনি সংগঠন ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব। আবেদনটি কার্যতালিকায় আসলে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হবে বলে জানান তিনি। 

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলে মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘যে সকল ভবন তৈরি হয় এবং যেসব ঠিকাদার ভবন নির্মাণের সঙ্গে জড়িত তাদের নাম সংশ্লিষ্ট ভবনে উল্লেখ থাকা উচিত। এতে করে যে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ধরা যাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত