ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে (১৮) পুড়িয়ে মারার চেষ্টার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪ জনের কথা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, এ ঘটনায় পুলিশ ৭ জনকে আটক করেছে।
সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি) মোয়াজ্জেম মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সেনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্র পরীক্ষার্থীর গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটকৃতরা হলেন- মাদ্রাসার দারোয়ান মো. মোস্তফা, অধ্যক্ষের ফুপা শ্বশুর ও ব্যক্তিগত সহকারী নুরুল আমিন, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আলাউদ্দিন ও জসিম উদ্দিন। এদের মধ্যে আবছার উদ্দিন ও আরিফুল ইসলামকে ঘটনার দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।
ওসি মোয়াজ্জেম আরও জানান, পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখছে। চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবুল ফজল, পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তার ভিত্তিতে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার এসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, পুলিশ অল্প সময়ের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে এমন সংবাদ দিলে সে (রাফি) ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যায়। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। সে অস্বীকৃতি জানালে তারা গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।
এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে আটক করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। ওই ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
