সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন না সিভিল সার্জন

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:০০ পিএম

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুল মতিন সাংবাদিকদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা থাকায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদি কোন সাংবাদিকের নিউজের জন্য বক্তব্য প্রয়োজন হয়, তাহলে মুখোমুখি আসতে হবে।

গত এক সপ্তাহ ধরে এই প্রতিবেদকসহ অনেক সাংবাদিকদের সাথে একই কথা বলে যাচ্ছেন সিভিল সার্জন।

বৃহস্পতিবার ভুল চিকিৎসায় কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার আনোয়ার হোসেন নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয় বলে দাবি তার স্বজনদের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মৃতের স্বজনেরা দুইজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করে। এ ছাড়া নার্স ও কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করেন।

 

এই ঘটনার জের ধরে ওইদিন থেকে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীরা। গত চারদিন ধরে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সহ পুরো হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ ছিল।

এতে বিপাকে পড়ে চিকিৎসাধীন রোগীরা। সচ্ছল রোগীরা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হলেও গরিব রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে চরম বেকায়দায় পড়ে। জেলার একমাত্র পূর্ণাঙ্গ এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় জেলাজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় বয়ে যায়।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউ সাংবাদিকদের বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। কোন উপায়ন্তর না দেখে  সাংবাদিকেরা কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. মো. আবদুল মতিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু, তিনিও মোবাইল ফোনে বক্তব্য দিতে রাজি নয়।

রোববার রাত ১০টার দিকে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) কক্সবাজার শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ও নার্সদের সাথে দফায় দফায় বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে বিএমএ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের আশ্বাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা বিএমএর সহযোগিতায় ইন্টার্নি চিকিৎসকদের আন্দোলন স্থগিত করা হয়।

এতে বলা হয় সোমবার সকাল থেকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সকল ধরনের চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাওয়া হবে।

উল্লেখ্য, টানা ৪দিন জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে অসহায় গরিব রোগীরা।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে জেলার সাধারণ মানুষ। একজনের জন্য পুরো হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখায় দায়ী চিকিৎসক-নার্স ও কর্মচারীদের কঠোর শাস্তি দাবি জানাচ্ছেন লোকজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত