বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার

জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের অঙ্গীকার

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০১৯, ১১:০৯ পিএম

জম্মু ও কাশ্মীরের নাগরিকদের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের অঙ্গীকার করা হয়েছে গত সোমবার ভারতীয় জনতা পার্টির প্রকাশিত নির্বাচনী ইশতেহারে। এ ছাড়া ইশতেহারে ভারতের সব অঞ্চলের কৃষকের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এনডিটিভি।

ইশতেহার প্রকাশ করার সময় মোদি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদ আমাদের উদ্দীপনা। দেশের দুর্বল খাতগুলোতে শক্তিশালী করাই আমাদের মন্ত্র। ভারতকে এক মিশন এবং এক দিকে নিয়ে যাওয়া হবে নির্বাচনে জিততে পারলে।’

ভারতীয় সংবিধানের আর্টিকেল ৩৫ অনুসারে জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দারা ছাড়া ভারতের অন্য প্রান্তের কোনো নাগরিক ওই স্থানে সম্পত্তি ক্রয় বা বাড়ি নির্মাণ করতে পারে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি নির্বাচনে জয়লাভ করে এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে কাশ্মীর ঘিরে নতুন সংকটের সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে পড়বে।

বিজেপির ইশতেহারে ১৯৫৪ সালে সংবিধান সংশোধন করে যুক্ত করা ওই ধারাটির বিষয়ে বলা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি আর্টিকেল ৩৫-এ রাজ্যটির উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এই আর্টিকেল ওই অঞ্চলের উন্নয়নে বাধা।’

কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক অধিকার বিলুপ্ত করার জন্য মোদির বিজেপি ধারাবাহিকভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের আইনের কারণে পুরো দেশের সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের সংযুক্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি দলটির।

বিজেপির এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভারতের একমাত্র মুসলিমপ্রধান রাজ্যটিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আইনটি পাল্টানো হলে তা ব্যাপক অস্থিরতার কারণ হতে পারে বলে এরই মধ্যে সতর্ক করেছেন কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতারা।

মোদির ইশতেহারের থিম রাখা হয়েছে ‘সংকল্পিত ভারত-সাসাকত ভারত’ (সংকল্পিত ভারত-ভারতের ক্ষমতায়ন)। এ ছাড়া এবারের ইশতেহারেও সাবেক ইশতেহারগুলোর মতো অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণে সব সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

বিজেপির মতো কংগ্রেসও কৃষকদের আয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া দেশের দরিদ্রদের জন্য প্রতি মাসে ভর্তুকি ভাতা দেওয়ারও অঙ্গীকার করে কংগ্রেস। যদিও এ নিয়ে এরই মধ্যেই সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত