কুষ্টিয়ায় মাদ্রাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করে গুরুতর আহতাবস্থায় একটি কক্ষে ৮দিন আটকে রাখার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার শিশুটির বড় ভাই মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কুষ্টিয়া অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিচারক মো. রেজাউল করিম মামলাটি আমলে নিয়ে নির্যাতনকারী ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জরি করেন।
আদালত সূত্রে জানায়, কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এ-ব্লকের মকবুল হোসেন-সামসুন্নাহার হাফেজিয়া মাদ্রাসার ওই শিশু শিক্ষার্থী সাধারণত দুই-একদিন পর পর মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও কথা বলতেন। কিন্তু হঠাৎ করে গত মার্চ মাসের ৭ তারিখ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত তার সঙ্গে পরিবারের কোন যোগাযোগ ছিল না। মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল জব্বারের মোবাইলে ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেন না।
বিষয়টি সন্দেহ হওয়ায় শিশুটির মা এবং ভাই সরাসরি মাদ্রাসায় এসে তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে কর্তব্যরত শিক্ষক আব্দুল জব্বার দেখা করতে না দিয়ে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করেন। এতে শোরগোল তৈরি হলে আশপাশের স্থানীয়রা এসে মাদ্রাসার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ একটি কক্ষ থেকে শিশুটিকে গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর শিশুটি তার ওপর নির্যাতনের ঘটনা খুলে বলেন। এই নির্যাতনের বিষয় কাউকে না বলার জন্য ওই শিশুটিকে হুমকিও দেন ওই শিক্ষক ।
এ বিষয়ে আদালতে বাদীর পক্ষে এজাহার দাখিল ও আইনি সহায়তাদানকারী এ্যাড. আব্দুল বারী জানান, শিশু নির্যাতনের অভিযোগে এজাহারটি বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দিয়েছেন।
