বাকপ্রতিবন্ধীর বিস্ময়কর প্রতিভা

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৯, ১১:২৫ পিএম

মুখে ভাষা নেই তার। শিল্পের কঠিনতম একটি শাখায় তার নির্বাক পদচারণা। মনের কথা বাক্সময় হয়ে ওঠে রংতুলি আর ক্যানভাসে। অথচ তার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই। নেই গুরুর ছায়া। তারপরও দারুণ আঁকিয়ে। এরই মধ্যে স্থানীয় শিল্পবোদ্ধাসহ ভিনদেশি অনেক অতিথির নজরও কেড়েছে এই বিস্ময়কর কিশোরী চিত্রশিল্পী। তারা ওর চিত্রকর্ম কিনে নিজের দেশে নিয়ে গেছেন বেশ কয়েকবার। করেছেন ওকে পুরস্কৃতও। বোধে প্রখর বাকপ্রতিবন্ধী এই কিশোরী চিত্রশিল্পীর নাম গুলশান আরা সুফিয়া কামাল। কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার জামালপুর সরকারবাড়ির মৃত আজিজুল হক সরকার এবং মা পারভীন আক্তারের বড় সন্তান।

প্রাকৃতিক বিভিন্ন বিষয় তার আঁকার প্রধান উপজীব্য হলেও আন্দোলন-সংগ্রাম, জ্ঞানী-গুণী মানুষসহ বিচিত্র বিষয় সুফিয়ার রংতুলির ক্যানভাসে ফুটে ওঠে। রং, তৈল আর পেনসিলে আঁকা শতাধিক চিত্রকর্ম ওর ভা-ারে। প্রতিদিনই এঁকে চলেছে, বিরামহীন। নিজের এই প্রতিভা বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ চায় শিশুকালে পিতৃহারা কিশোরী।

স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর সুফিয়ার মা পারভীন আক্তার ২০১৪ সালে স্থানীয় হাজী আসমত আলী বালিকা শিশু পরিবার নামে একটি এতিমখানায় চাকরি নেন। তিন মেয়েরও ঠাঁই হয় সেখানে। পরে সেখান থেকে স্থানীয় রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পিএসসি ও জেএসসি পাস করে সুফিয়া। বর্তমানে এতিমখানার সহযোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাজী আসমত আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে সুফিয়া দশম শ্রেণিতে পড়ছে।

এতিমখানায় আসা বিভিন্ন সময় মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ-আমেরিকার অনেক অতিথি সুফিয়ার চিত্রকর্ম দেখে মুগ্ধ হন। এরই মধ্যে কয়েক অতিথি সুফিয়ার চিত্রকর্ম সম্মানীর বিনিময়ে নিয়ে গেছেন তাদের দেশে। অতিথিরা তাকে অর্থের পাশাপাশি ছবি আঁকার বহু উপকরণও উপহার দিয়েছেন।

বাকপ্রতিবন্ধ সুফিয়া মুখে কথা বলতে না পারলেও কাগজে লিখে জানায়, সে বড় চিত্রশিল্পী হওয়ার সুযোগ চায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত