আগে নিত্যব্যবহার্য থাকলেও এখন কাঁসা-পিতলের সামগ্রীর ব্যবহার কমে গেছে। তবু বৈশাখের মতো উৎসব-পার্বণে কাঁসা-পিতলের জিনিসপত্রের ব্যবহার আজও দেখা যায়। বাজার ঘুরে কাঁসা-পিতলের বাসনকোসনের খবর জানালেন রানা আহমেদ
রকম সকম : বাসনকোসন থেকে শুরু করে ঘর সাজানোর শৌখিন সামগ্রী সব কিছুই পাওয়া যায় কাঁসা-পিতলে। এলিফ্যান্ট রোডের কম্পিউটার সিটি মার্কেটের মোরছালিন মেটাল হাউসের মালিক মোস্তফা কামাল জানান, তামা, পিতল ও কাঁসার নিত্যব্যবহার্য পণ্য ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত সামগ্রী তার দোকানে পাওয়া যায়। এর মধ্যে পিতল ও কাঁসার বাসন-কোসন, হাঁড়ি-পাতিল, গ্লাস-প্লেট, পানির জগ, বোল-বাটি, পট, কুপিবাতি, হুঁকা, সুরমাদানি, পানদানি, লবণদানি, বদনা, ছেনি, ট্রে, কলস, টিফিন ক্যারিয়ার ইত্যাদি। গৃহসজ্জা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ফুলদানি, উইন্ড চাইম, গ্রামোফোন, ফটোফ্রেম, দাবার ছকসহ বিভিন্ন শোপিস এবং তার সঙ্গে ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে নানা উপহার সামগ্রী।
দরদাম : পিতলের কলস ৮ ইঞ্চি ১০০০ টাকা, ১০ ইঞ্চি ১২০০ এবং ১২ ইঞ্চি ১৫০০ টাকা। থালা ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা। বাটি ৪ থেকে ১০ ইঞ্চি ২০০ থেকে ২০০০ টাকা। চামচ ছোট ৩০০ এবং বড় ৪০০ টাকা। জগ ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকা। এ ছাড়া তামার তৈরি ফুলদানি ১০০০ থেকে ১২ হাজার টাকা, ফুলের টব ১ হাজার থেকে ১৫ হাজার, টবের স্ট্যান্ড ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০, বাতির শেড ১৫ হাজার, কলস (হালকা নকশা) ১ হাজার থেকে ৪ হাজার, কলস (ভারী নকশা) ১ হাজার ৫০০ থেকে ৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া আকার, নকশা ও ওজনভেদে বিভিন্ন শৌখিন পণ্য ও শোপিস কিনতে পারবেন ৫০০ থেকে ২০ হাজার টাকায়। কাঁসার তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী ওজন করে বিক্রি করা হয়।
কোথায় পাবেন : গুলশান ডিসিসি মার্কেটে (দোতলায়) মিলবে পিতল ও কাঁসার তৈরি বিভিন্ন গৃহসজ্জা সামগ্রী ও অ্যান্টিক শোপিস। ফরমায়েশ দিয়ে বানিয়ে নিতে চাইলে যেতে পারেন নিউ এলিফ্যান্ট রোড, পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার ও সাকুরা মার্কেট। এখানে রেডিমেড ও অর্ডার দুভাবেই পিতল-কাঁসার পণ্য বিক্রি হয়। এ ছাড়া আড়ং, যাত্রা, দেশী-দশ, স্বদেশি, আইডিয়া ক্রাফটসহ বিভিন্ন দেশি ফ্যাশন হাউসে পাবেন পিতল ও কাঁসার তৈরি বিভিন্ন শোপিস ও গৃহসজ্জা সামগ্রী।
যত্নআত্তি : পরিষ্কার রাখতে হার্ডওয়্যারের দোকানে মেটাল পলিশ নামে এক ধরনের বোতলজাত তরল পাওয়া যায়। এই তরল পিতল-কাঁসার তৈরি পণ্যের গায়ে ভালোভাবে ব্রাশ দিয়ে লাগাতে হবে। এতে পাত্রের গায়ের রং খানিকটা কালো হয়ে যাবে। পরে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে কাপড় দিয়ে ভালোভাবে ঘষতে হবে। যতই ঘষা হবে পাত্র উজ্জ্বল আর নতুনের মতো চকচকে দেখাবে। কখনোই ভেজা কাপড় ব্যবহার করা যাবে না।
